Pages

Tuesday, April 15, 2014

আল্লাহর আমানত মানুষের বহন করার দায়িত্বগ্রহণ সম্পর্কে কিছু কথা

আল্লাহর আমানত মানুষের বহন করার দায়িত্বগ্রহণ সম্পর্কে কিছু কথা



.إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ ۖ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا


.لِّيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا


৭২) আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি, তারা একে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু মানুষ একে বহন করেছে, নিসন্দেহে সে বড় জালেম ও অজ্ঞ৷১২০  ৭৩) এ আমানতের বোঝা উঠাবার অনির্বায ফল হচ্ছে এই যে, আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদেরকে সাজা দেবেন এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের তাওবা কবুল করবেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷  (আল আহযাব)

তাফহীমুল কুরআনে প্রণীত উক্ত আয়াতসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নীচে দেয়া হল: 

১২০. বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে আল্লাহ মানুষকে এ চেতনা দান করতে চান যে, দুনিয়ায় সে কোন ধরনের মর্যাদার অধিকারী এবং এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থেকে যদি সে দুনিয়ার জীবনকে নিছক একটি খেলা মনে করে নিশ্চিন্তে ভুল নীতি অবলম্বন করে, তাহলে কিভাবে স্বহস্তে নিজের ভবিষ্যত নষ্ট করে।
এ স্থানে "আমানত" অর্থ সেই "খিলাফতই" যা কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে মানুষকে দুনিয়ায় দান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে আনুগত্য ও অবাধ্যতার যে স্বাধীনতা দান করেছেন এবং এ স্বাধীনতা ব্যবহার করার জন্য তাকে অসংখ্য সৃষ্টির ওপর যে কর্তৃত্ব ক্ষমতা দিয়েছেন। তার অনিবার্য ফল স্বরূপ মানুষ নিজেই নিজের স্বেচ্ছাকৃত কাজের জন্য দায়ী গণ্য হবে এবং নিজের সঠিক কর্মধারার বিনিময়ে পুরস্কার এবং অন্যায় কাজের বিনিময়ে শাস্তির অধিকারী হবে। এসব ক্ষমতা যেহেতু মানুষ নিজেই অর্জন করেনি বরং আল্লাহ তাকে দিয়েছেন এবং এগুলোর সঠিক ও অন্যায় ব্যবহারের দরুন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে, তাই কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে এগুলোকে খিলাফত শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এখানে এগুলোর জন্য আমানত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
এ আমানত কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্বল সে ধারণা দেবার জন্য আল্লাহ বলেন, আকাশ ও পৃথিবী তাদের সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব এবং পাহাড় তার বিশাল ও বিপুলায়তন দেহাবয়ব ও গম্ভীরতা সত্ত্বেও তা বহন করার শক্তি ও হিম্মত রাখতো না কিন্তু দূর্বল দেহাবয়বের অধিকারী মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতম প্রাণের ওপর এ ভারী বোঝা উঠিয়ে নিয়েছে।
পৃথিবী ও আকাশের সামনে আমানতের বোঝা পেশ করা এবং তাদের তা উঠাতে অস্বীকার করা এবং ভীত হওয়ার ব্যাপারটি হতে পারে শাব্দিক অর্থেই সংঘটিত হয়েছে। আবার এও হতে পারে যে, একথাটি রূপকের ভাষায় বলা হয়েছে। নিজের সৃষ্টির সাথে আল্লাহর যে সম্পর্ক রয়েছে তা আমরা জানতেও পারি না এবং বুঝতেও পারি না। পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য ও পাহাড় যেভাবে আমাদের কাছে বোবা, কালা ও প্রাণহীন, আল্লাহর কাছেও যে তারা ঠিক তেমনি হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আল্লাহ নিজের প্রত্যেক সৃষ্টির সাথে কথা বলতে পারেন এবং সে তার জবাব দিতে পারে। এর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করার ক্ষমতা আমাদের বুদ্ধি ও বোধশক্তির নেই। তাই এটা পুরোপুরিই সম্ভব যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ নিজেই এ বিরাট বোঝা তাদের সামনে পেশ করে থাকবেন এবং তারা তা দেখে কেপে উঠে থাকবে আর তারা তাদের প্রভু ও স্রষ্টার কাছে এ নিবেদন পেশ করে থাকবে যে, আমরা তো আপনারই ক্ষমতাহীন সেবক হয়ে থাকার মধ্যেই নিজেদের মংগল দেখতে পাই। নাফরমানী করার স্বাধীনতা নিয়ে তার হক আদায় করা এবং হক আদায় না করতে পারলে তার শাস্তি বরদাশত করার সাহস আমাদের নেই। অনুরূপভাবে এটাও সম্ভব, আমাদের বর্তমান জীবনের পূর্বে আল্লাহ সমগ্র মানব জাতিকে অন্য কোন ধরনের একটি অস্তিত্ব দান করে নিজের সামনে হাজির করে থাকবেন এবং তারা নিজেরাই এ দায়িত্ব বহন করার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকবেন। একথাকে অসম্ভব গণ্য করার জন্য কোন যুক্তি আমাদের কাছে নেই। একে সম্ভাবনার গন্ডীর বাইরে রাখার ফায়সালা সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে নিজের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতার ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছে।
তবে এ বিষয়টাও সমান সম্ভবপর যে, নিছক রূপকের আকারে আল্লাহ এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন এবং অবস্থার অস্বাভাবিক গুরুত্বের ধারণা দেবার জন্য এমনভাবে তার নকশা পেশ করা হয়েছে যেন একদিকে পৃথিবী ও আকাশ এবং হিমালয়ের মতো গগণচুম্বী পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে ৫/৬ উচু লম্বা একজন মানুষ। আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেনঃ
"আমি আমার সমগ্র সৃষ্টিকূলের মধ্যে কোন একজনকে এমন শক্তি দান করতে চাই যার ফলে আমার সার্বভৌম কর্তৃত্বের মধ্যে অবস্থান করে সে নিজেই স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে আমার প্রাধান্যের স্বীকৃতি এবং আমার হুকুমের আনুগত্য করতে চাইলে করবে অন্যথায় সে আমাকে অস্কীকার করতেও পারবে আর আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঝান্ডা নিয়েও উঠতে পারবে। এ স্বাধীনতা দিয়ে আমি তার কাছ থেক এমনভাবে আত্মগোপন করে থাকবো যেন আমি কোথাও নেই। এ স্বাধীনতাকে কার্যকর করার জন্য আমি তাকে ব্যাপক ক্ষমতা দান করবো, বিপুল যোগ্যতার অধিকারী করবো এবং নিজের অসংখ্য সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করবো। এর ফলে বিশ্ব- জাহানে সে যা কিছু ভাংগা গড়া করতে চায় করতে পারবে। এরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমি তার কাজের হিসেব নেবো। যে আমার প্রদত্ত স্বাধীনতাকে ভুলপথে ব্যবহার করবে তাকে এমন শাস্তি দেবো যা কখনো আমার কোন সৃষ্টিকে আমি দেইনি। আর যে নাফরমানীর সমস্ত সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমার আনুগত্যের পথই অবলম্বন করে থাকবে তাকে এমন উচ্চ মর্যাদা দান করবো যা আমার কোন সৃষ্টি লাভ করেনি। এখন বলো তোমাদের মধ্য থেকে কে এ পরীক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে প্রস্তুত আছে৷
এ ভাষণ শুনে প্রথমে তো বিশ্ব-জগত নিরব নিথর দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর একের পর এক এগিয়ে আসে। সকল প্রকান্ড অবয়ব ও শক্তির অধিকারী সৃষ্টি এবং তারা হাটু গেড়ে বসে কান্নাজড়িত স্বরে সানুনয় নিবেদন করে যেতে থাকে তাদেরকে যেন এ কঠিন পরীক্ষা থেকে মুক্ত রাখা যায়। সবশেষে এ একমুঠো মাটির তৈরি মানুষ ওঠে। সে বলে, হে আমার পওয়ারদিগার!আমি এ পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। এ পরীক্ষায় সফলকাম হয় তোমার সালতানাতের সবচেয়ে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হবার যে আশা আছে সে কারণে আমি এ স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারের মধ্যে যেসব আশংকা ও বিপদাপদ রয়েছে সেগুলো অতিক্রম করে যাবো।
নিজের কল্পনাদৃষ্টির সামনে এ চিত্র তুলে ধরেই মানুষ এই বিশ্ব জাহানে কেমন নাজুক স্থানে অবস্থান করছে তা ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারে। এখন এ পরীক্ষাগৃহে যে ব্যক্তি নিশ্চিন্তে বসে থাকে এবং কতবড় দায়িত্বের বোঝা যে সে মাথায় তুলে নিয়েছে, আর দুনিয়ার জীবনে নিজের জন্য কোন নীতি নির্বাচন করার সময় যে ফায়সালা সে করে তার সঠিক বা ভুল হবার ফল কি দাঁড়ায় তার কোন অনুভূতিই যার থাকে না তাকেই আল্লাহ এ আয়াতে জালেম ও অজ্ঞ বলে অভিহিত করছেন। সে অজ্ঞ, কারণ সেই বোকা নিজেই নিজেকে অদায়িত্বশীল মনে করে নিয়েছে। আবার সে জালেম, কারণ সে নিজেই নিজের ধ্বংসের ব্যবস্থা করছে এবং নাজানি নিজের সাথে সে আরো কতজনকে নিয়ে ডুবতে চায়।

আল্লাহর সৃষ্টি বিস্ময় - ধারাবাহিক বাংলা ডকুমেন্টারী, দেখুন প্লীজ ॥


ALLAHOR SRISTI BISMOY Clip_1_3
ALLAHOR SRISTI BISMOY Clip_2_3
ALLAHOR SRISTI BISMOY Clip_3_3

Thursday, April 10, 2014

"আমি তার কর্ণ হয়ে যাই" এই হাদিসটি বুঝার ক্ষেত্রে সলফে সালেহীনের অনুসৃত পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে ইত্তিহাদিয়া সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির অপনোদন।

"আমি তার কর্ণ হয়ে যাই" এই হাদিসটি বুঝার ক্ষেত্রে সলফে সালেহীনের অনুসৃত পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে ইত্তিহাদিয়া সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির অপনোদন।


প্রশ্ন: 

আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে বলেছেন- "যখন আমি তাকে (বান্দাকে) ভালবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যে কান দিয়ে সে শুনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যে চোখ দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যে হাত দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে হাঁটে।" এমতাবস্থায় আমরা স্রষ্টা ও সৃষ্টি একই সত্তা এই মতাদর্শ এবং আল্লাহর গুণাবলী সম্বলিত আয়াতসমূহের ব্যাপারে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত পদ্ধতির মাঝে কিভাবে সমন্বয় করব? আশা করি আপনারা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবেন; আল্লাহ আপনাদের সম্মান বৃদ্ধি করুন। কারণ আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকারকারী সম্প্রদায় আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে সলফে সালেহীনদের অনুসৃত পদ্ধতিকে এই বলে প্রশ্নবিদ্ধ করেন যে, আমরা যদি আল্লাহর গুণাবলী সম্বলিত আয়াত ও হাদিসকে মূল অর্থে গ্রহণ করি এতে করে স্রষ্টা ও সৃষ্টি এক সত্তা- এ দৃষ্টিভঙ্গি অনিবার্য হয়ে যায়।



আল্লাহর গুণাবলীর ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- কুরআন ও হাদিসের দলীল ছাড়া আল্লাহর জন্য কোন গুণ বা বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করা যাবে না। কুরআন ও হাদিসে আল্লাহর যেসব গুণের উল্লেখ রয়েছে তাঁর জন্য শুধু সে গুণগুলো সাব্যস্ত করতে হবে এবং কোন মাখলুকের সাথে আল্লাহর গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যতাকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ নিজেই বলেছেন- (لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ  ) অর্থ- তাঁর মত কিছুই নেই এটি মুমাচ্ছিলা (সাদৃশ্যবাদী) সম্প্রদায়ের মতাদর্শের বিপক্ষে দলীল। কোন কোন আলেম এদেরকে মুশাব্বিহা (উপমাবাদী) বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। এ আয়াতের পরবর্তী অংশ হচ্ছে- (وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ) অর্থ- "তিনি হচ্ছে সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা"[সূরা শুরা, আয়াত: ১১] এ অংশে মুআত্তিলা (নিরাকারবাদী) মতাদর্শের বিপক্ষে দলীল রয়েছে। যারা বিশ্বাস করেন যে, নামের মধ্যে সাদৃশ্য থাকা অস্তিত্বের মধ্যেও সাদৃশ্য থাকাকে অনিবার্য করে। 
আমরা 155206 নং প্রশ্নের জবাবে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা উল্লেখ করেছি। আপনি সে নীতিগুলো পড়ে নিতে পারেন। 34630 নং প্রশ্নের জবাবে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে পরিহারযোগ্য তাহরিফ (গুণকে বিকৃত করা), তা'তিল (গুণকে অস্বীকার করা), তামছিল (মাখলুকের গুণের সাথে সাদৃশ্য দেয়া) ও তাক্য়িফ (গুণ বা বৈশিষ্ট্যের অবয়ব নির্ধারণ করা) এ চারটি বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে। যে বা যারা এ চারটি নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হবেন তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি যেভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব সেভাবে ঈমান আনেননি। শাইখ ইবনে উছাইমীন (রহঃ) তাঁর লিখিত আল-কাওয়ায়েদ আল-মুছলা ফি সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমাইহিল হুসনা গ্রন্থে এ সংক্রান্ত বেশকিছু বিধি উল্লেখ করেছেন। বইটি নিম্নোক্ত লিঙ্কে পাওয়া যাবে। http://www.ibnothaimeen.com/all/books/article_16822.shtml এছাড়া শাইখ আলাবি বিন আব্দুল কাদের আল-সাক্কাফ (হাঃ) তাঁর লিখিত সিফাতুল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্ল ফিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ নামক কিতাবে আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কিত একুশটি নীতি উল্লেখ করেছেন। নীচের লিঙ্কে গিয়ে বইটি পড়া যাবে।
দুই:
প্রশ্নকারী যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন: রাসূল (সাঃ) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন- যে ব্যক্তি আমার কোন ওলির সাথে শত্রুতা পোষণ করে আমি তার বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করি আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য হাছিল করতে থাকে অবশেষ আমি তাকে ভালবেসে ফেলি যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার কর্ণ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে আমি তার চক্ষু হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে আমি তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে চলাফেরা করে সে আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আমি তাকে তা দেই সে যদি আমার নিকট আশ্রয় চায়, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই [সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৬১৩৭] এখানে আমরা একটা বিষয়ে প্রশ্নকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেটা হলো এই হাদিস দিয়ে হুলুলিয়া সম্প্রদায় তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের পক্ষে দলীল দিয়ে থাকে; ইত্তিহাদিয়া সম্প্রদায় নয়। ইত্তিহাদ ও হুলুল এর মধ্যে পার্থক্য জানার জন্য 147639 নং প্রশ্নের জবাব দেখুন। হুলুলিয়াগণ বলেন যে, এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে - স্রষ্টা ও সৃষ্টি একই সত্তা। যখন বান্দা ফরয ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করে নেয় তখন আব্‌দ নিজেই মাবুদ হয়ে যায় (আল্লাহ ক্ষমা করুন)। আব্‌দ নিজেই আল্লাহর কর্ণ দিয়ে শুনে, আল্লাহর চক্ষু দিয়ে দেখে। অর্থাৎ খালেক ও মাখলুক একীভূত হয়ে এক জিনিসে পরিণত হয়ে যায়। এ ধরনের বিশ্বাস নিঃসন্দেহে ইসলাম বিনষ্টকারী কুফরি বিশ্বাস। যে হাদিসটি দিয়ে তারা দলীল দিচ্ছেন খোদ সে হাদিসই তাদের বিপক্ষে দলীল। যেহেতু সে হাদিসে খালেক ও মাখলুক এর দুইটি সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং উভয় সত্তার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। আবেদ ও মাবুদের দুইটি সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং উভয় সত্তার মধ্যে পার্থক্য নিরুপণ করা হয়েছে। মুহিব্ব ও মাহবুবের দুইটি সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রার্থনাকারী ও সাড়াদানকারীর দুইটি সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। হাদিসের মধ্যে এমন দলীল পাওয়া যায় না- যা প্রমাণ করে যে, তারা উভয়ে একই সত্তার অধিকারী। 
ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: ইত্তিহাদপন্থী নাস্তিকগণ তাদের মতাদর্শের পক্ষে এই দলীল উল্লেখ করেন যে, আমি তার কর্ণ, আমি তার চক্ষু, আমি তার হাত, আমি তার পা।" প্রকৃতপক্ষে কয়েকটি দিক হতে হাদিসটি তাদের বিপক্ষে দলীল: হাদিসে বলা হয়েছে- "যে ব্যক্তি আমার কোন ওলির সাথে শত্রুতা পোষণ করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিই" অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা শত্রুও সাব্যস্ত করেছেন, ওলি (বন্ধু)ও সাব্যস্ত করেছেন। তিনি নিজের জন্য এটাও সাব্যস্ত করেছেন, ওটাও সাব্যস্ত করেছেন। 
অনুরূপভাবে হাদিসে এসেছে- "আমি যা ফরয করেছি সেটার মত অন্যকিছু দিয়ে বান্দা আমার নৈকট্য হাছিল করতে না।" অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দা ও বিভিন্ন ইবাদত ফরযকারী প্রতিপালক সাব্যস্ত করা হয়েছে। হাদিসে আরো এসেছে- "আমার বান্দা উপর্যুপরি নফল ইবাদত করতে থাকে এক পর্যায়ে আমি তাকে ভালবাসি" অর্থাৎ 'নৈকট্য লাভকারী ও যার নৈকট্য লাভ করা হয়' সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহিব্ব ও মাহবুব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ দলীলগুলো তাদের একক অস্তিত্বের মতাদর্শকে অপনোদন করে দেয়। হাদিসে আরো এসেছে- "আমি তাকে ভালবাসতে থাকি একপর্যায়ে আমি তার কর্ণ হয়ে যায়, যে কান দিয়ে সে নে আমি তার চক্ষু হয়ে যায়, যে চক্ষু দিয়ে সে দেখে" অর্থাৎ আল্লাহর ভালবাসা প্রাপ্তির পর বান্দার জন্য এ বিষয়গুলো সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইত্তিহাদিয়াদের মতে আল্লাহর ভালবাসা পাওয়ার পরের অবস্থা ও আগের অবস্থা অভিন্ন।[মাজমু' ফাওয়া (২/৩৭১, ৩৭২) 
ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন: হাদিসের পরের অংশে আল্লাহ তাআলা বলেন- ( وَلَئِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ ) অর্থ- "যদি সে আমার নিকট কোন কিছু প্রার্থনা করে আমি তাকে সেটা দান করি যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় আমি তাকে আশ্রয় দান করি" এখানে প্রার্থনাকারী ও প্রার্থনাগ্রহণকারীর আলাদা সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী ও আশ্রয়প্রদানকারীর আলাদা সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। বান্দাকে আশ্রয়প্রার্থী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর প্রতিপালককে আশ্রয়প্রদানকারী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই হাদিসে মহান কিছু উদ্দেশ্যের সন্নিবেশ ঘটেছে।[মাজমু'ল ফাতাওয়া ১৭/১৩৪] 
ইবনে হাজার (রহঃ) এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: এই হাদিসটির অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। তবে যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা হোক না কেন এই হাদিসে ইত্তেহাদিয়া বা ওয়াহদাতুল ওজুদ (একক অস্তিত্ববাদ) মতাদর্শীদের পক্ষে কোন দলীল নেই। যেহেতু হাদিসের পরের অংশে এসেছে- "যদি বান্দা আমার কাছে প্রার্থনা করে, যদি বান্দা আমার কাছে আশ্রয় চায়" অর্থাৎ হাদিসের এ অংশটি ইত্তিহাদিয়া ও ওয়াহদাতুল ওজুদ মতাদর্শীদের বিপক্ষে সুস্পষ্ট দলীল।[ফাতহুল বারী ১১/৩৪৫] 
ইমাম শাওকানী (রহঃ) ইবনে হাজার (রহঃ) এর এ উক্তিটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: তিনি বাতিলপন্থীদের দলীল খণ্ডন করতে গিয়ে হাদিসের যে অংশটি উদ্ধৃত করেছেন (যদি আমার কাছে প্রার্থনা করে, যদি আমার কাছে আশ্রয়প্রার্থী হয়) এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, হাদিসের এ অংশটি প্রার্থনাকারী ও প্রার্থনাগ্রহণকারীর আলাদা অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে এবং আশ্রয়প্রার্থী ও আশ্রয়দাতার আলাদা অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। সম্ভবতঃ তিনি হাদিসটি নিয়ে যথোপযুক্ত চিন্তাভাবনা করেননি। যদি করতেন তাহলে তিনি শুধু প্রার্থনা ও আশ্রয়প্রার্থনার কথা উল্লেখ করতেন না। কারণ গোটা হাদিসটি তাদের বিরুদ্ধে দলীল। হাদিসের বাণী: "যে ব্যক্তি আমার কোন ওলির সাথে শত্রুতা পোষণ করে" এ অংশটি শত্রু, বিপক্ষ শত্রু ও শত্রুতার কারণের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। অনুরূপভাবে বন্ধুত্বপোষণকারী ও বন্ধুত্বগ্রহণকারীর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। অনুরূপভাবে যুদ্ধঘোষণাকারী ও যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় উভয়ের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। যুদ্ধকারী ও যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয় উভয়ের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। নৈকট্যলাভকারী ও নৈকট্যপ্রদানকারীর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। বান্দা ও মাবুদের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। মুহিব্ব ও মাহবুবের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। এভাবে হাদিসের শেষ পর্যন্ত। গোটা হাদিসটি ইত্তেহাদিয়া সম্প্রদায়ের মতাদর্শের বিপক্ষে দলীল। কিন্তু তারা তা অনুধাবন করতে চায় না। বরঞ্চ আরো পরিস্কারভাবে হাদিসে এসেছে- "মুমিনের আত্মা কবজের ক্ষেত্রে আমি যতবেশী দ্বিধাগ্রস্ত হই অন্য কোন বিষয়ে আমি সে রকম দ্বিধগ্রস্ত হই না" এই হাদিসে- দ্বিধাগ্রস্ত ও যার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত দুইটি সত্তার অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে। কর্তা ও কৃত দুইটি সত্তার অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে। যে আত্মার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত অর্থাৎ মুমিন বান্দা ও যিনি দ্বিধাগ্রস্ত অর্থাৎ কবজকারী দুইটি সত্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। মৃত্যুকে অপছন্দকারী তথা মুমিন বান্দা এবং ও মৃত্যুদান করাকে অপছন্দকারী তথা আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে। 
সারকথা হচ্ছে- ইত্তেহাদিয়াদের এই মতাদর্শ সকল বিবেকবানের বিবেককে বিকল করে দেয়। সুতরাং তাদের বিপক্ষে আর কি প্রমাণ পেশ করার প্রয়োজন আছে। তারা যে শুবা-সন্দেহ দ্বারা বিপথগামী হয়েছে, সেটি দ্বৈতবাদে বিশ্বাসীদের কাছ থেকে ধারকৃত। যারা মনে করেন ঈশ্বর দুইজন- কল্যাণের ঈশ্বর ও অনিষ্টের ঈশ্বর। কল্যাণের ঈশ্বর হচ্ছে- আলো। আর অনিষ্টের ঈশ্বর হচ্ছে- অন্ধকার। তাদের মতে সকল অস্তিত্বশীলের মূলে রয়েছে এই দুই সত্তা। যখন মানুষের ওপর আলো প্রভাব বিস্তার করে তখন মানুষ আলোকিত হয়। আর যখন অন্ধকার প্রভাব বিস্তার করে তখন মানুষ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। কিন্তু ইত্তেহাদিয়াগণ এ ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন যে, এই মতাদর্শের মূল বিশ্বাসই তাদের বিপক্ষে। কারণ অন্ধকার আর আলো তো এক জিনিস নয়। অনুরূপভাবে অন্ধকার বা আলো যে সত্তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে সেটাও তো আলাদা একটি সত্তা।[ইমাম শাওকানী এর কাতরুল ওলি আলা হাদিসিল ওলি গ্রন্থ হতে গৃহীত, পৃষ্ঠা ৪১৯-৪২১] আলোচিত হাদিসটির মূল পাঠ এবং আরো কিছু বিশ্লেষণ 2137114397 নং প্রশ্নের জবাবে দেখা যেতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।
ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব


Sunday, March 30, 2014

আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?-একটি অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রশ্ন

আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?-একটি অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রশ্ন


[ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

আমার মহল্লার এক ছেলে।  আমাকে দেখে সেদিন বললো, ভাইয়া আমার একটা কথা আছে, আপনার কি একটু সময় হবে?

বললাম, হ্যাঁ বলো। সে বললো, ভাইয়া এতো দিন তো ধর্ম-কর্ম নামাজ-কালামের ধার দিয়েও হাটতাম না। এখন একটু এ পথে আসার চেষ্টা করছি; অথচ মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন শুধু খোচায়! 

বললাম, কী প্রশ্ন বলো। সে বললো, খালি মনে হয় ‘আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে’?
আমি বললাম, কেন অন্য কেউ কি নিজেকে বিশ্বজাহানের স্রষ্টা বলে দাবী করেছে না কি?
সে যেন একটু হকচকিয়ে গেল। বললাম তাহলে সমস্যা কী? অন্য কেউ দাবী করলে না একটা সমস্যা ছিলো। যে দাবী মাত্র একজনই করেছে, কেউ কোনো দিন তাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখায়নি সেটা নিয়ে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়!
একটু থতমত খেয়ে সে বললো, না ভাইয়া! এমন তো না, কিন্তু মনের মধ্যে খালি এই কথা এসে খোচায়! 
বললাম, এটা তো কোনো প্রশ্ন নয় এটা শয়তানের একটা শিশুতোষ ধোঁকা! এটা দিয়ে সে কেবল বোকাদেরকেই ঘায়েল করতে পারে। তুমি এতো আধুনিক যুগের বুদ্ধিমান মানুষ হয়ে এতে আক্রান্ত হও কিভাবে? 
সে যেন একটু সাহস পেলো, চোখটা চকচক করে উঠলো। বললাম, শোনো, তোমার মনের ঘরে এতো দিন কোনো সম্পদ ছিলো না যে, শয়তান তা চুরি করতে আসবে। এখন সম্ভবত ঈমানের সম্পদ একটু একটু জমা হতে শুরু করেছে। তাই শয়তানের এই হানা, তা চুরি করে নিতে। তুমি সত্যিই আন্তরিকভাবে জানতে ও বুঝতে চাও, নাকি শুধু তর্কের জন্য তর্ক করতে চাও? সে বললো, ছি ভাইয়া! আমি আপনার সাথে তর্ক করবো? 
আমি বললাম, তাহলে শোনো, ‘আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে’ প্রশ্ন তো এখানেই শেষ হয়ে যাবে না। এরপর তোমার জানতে হবে, তাকে কে সৃষ্টি করেছে, তারপর তাকে কে? তারপর তাকে কে? তারপর তাকে কে? তাই না?
খানিকটা ভেবে সে বললো, হ্যাঁ, তাই তো! আমি বললাম, ঠিক আছে তুমি এক কাজ করো; এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো, তাকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো। তারপর যেখানে গিয়ে তুমি ঠেকে যাবে, যে আর পিছনে কেউ নেই, তারপর আমি জবাব দেবো যে, তাকে সৃষ্টি করেছে। সে একটু মাথা চুলকিয়ে বললো, হ্যাঁ, ভাইয়া। 

বললাম, ঠিক আছে আগে তোমার প্রশ্ন আগে শেষ করো। এক কাজ করো তুমি। তুমি প্রশ্ন করতে থাকো, আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে?............ এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো.........। আমি একটু বাজার করে আসি। তুমি যেখানে গিয়ে দেখবে যে আর পিছনে কেউ নেই সেখানে দাঁড়িয়ে যাবে। তারপর আমি দলীল প্রমাণ সহ সেই সত্ত্বাকে চিনিয়ে দেবো। ঠিক আছে?

সে সম্ভবত কিছু বুঝে না উঠতে পেরে বললো, ঠিক আছে ভাইয়া।

আমি বাজার থেকে ফিরে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কী খবর, শেষ পেয়েছো? সে অসহায়ের মতো বললো, না ভাইয়া, এ প্রশ্নের তো কোনো শেষ নেই?

বললাম, তুমি একটু গভীরভাবে ভেবে দেখো, তাহলেই বুঝতে পারবে যে, সকল কিছুর অস্তিত্বের জন্য এমন একজন থাকা চাই যাকে কেউ অস্তিত্ব দেয়নি, যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি। যিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী; চিরকাল ছিলেন, চিরকাল থাকবেন। যিনি অনন্ত অসীম; যিনি প্রথম যিনি শেষ।

ছেলেটা আবেগে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, জি ভাইয়া বুঝতে পেরেছি।

আমি বললাম, আসলে যার কোনো স্রষ্টা আছে সে তো সৃষ্টি। যার অস্তিত্বের জন্য স্রষ্টা প্রয়োজন সে তো স্রষ্টা হতে পারে না। স্রষ্টা আর সৃষ্টির মৌলিক একটা পার্থক্যই তো এইটা। 

তাছাড়া ‘আল্লাহর স্রষ্টা কে’ এ প্রশ্নের যেহেতু কোনো শেষ নেই, তাই আসলে এটা কোনো প্রশ্নই নয়; বরং এটা হলো নিছক শয়তানের কুমন্ত্রণা। যখনই তোমার মনে শয়তান এমন কুমন্ত্রণা দেবে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করবে। পড়বে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম। পড়বে, রব্বী আউযুবিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াইত্বীন, ওয়া আউযুবিকা রব্বী আই ইয়াহ্‌দুরূন। সূরা ইখলাস পাঠ করবে। আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (সা.) আমাদেরকে এ কুমন্ত্রণা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে এ ধরণের উপদেশই দিয়েছেন।

সব শেষে সে বললো, ঠিকই বলেছেন ভাইয়া। শয়তান আর এই ফালতু প্রশ্ন নিয়ে আমার চিন্তার ত্রিসীমানায়ও আসতে পারবে না।

আল্লাহ আমাদের সকলকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন!

Saturday, March 29, 2014

'স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে', এই প্রশ্ন করার অধিকার নাস্তিকদের নাই..

'স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে', এই প্রশ্ন করার অধিকার নাস্তিকদের নাই..


নাস্তিকদের স্ববিরোধীতা ও দ্বৈতনীতির একটা জ্বলজ্বলে উদাহরণ হচ্ছে এই প্রশ্নটা- "স্রষ্ট্রাকে কে সৃষ্টি করেছে?" কারণ, নাস্তিকতার প্রথম বিশ্বাস বা নাস্তিক্যবাদী ঈমানের মূল ভিত্তি হচ্ছে এই বিশ্বজগতের কোন সৃষ্টিকর্তা নাই, এগুলি নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এতবড় বিশ্বজগৎ যদি কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে তাহলে "স্রষ্ট্রার এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে যাওয়া"-তে তাদের এত সমস্যা কোথায়? তাদের নিজেদের বেলায় এতকিছু সৃষ্টি হওয়ার জন্য কোন স্রষ্ট্রা লাগে না কিন্তু আস্তিকদের স্রষ্ট্রার অবশ্যই একজন স্রষ্ট্রা থাকতে হবে! স্ববিরোধীতার এরচাইতে ভাল উদাহরণ আর কী হতে পারে?



আস্তিকের দাবী অনুসারে এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টির পেছনে অবশ্যই একজন স্রষ্ট্রা রয়েছেন এবং সেই স্রষ্ট্রার অস্তিত্ব যতটা না যুক্তির উপরে দাঁড়িয়ে তারচাইতে বেশি বিশ্বাসের উপরে। আর এই বিশ্বাসের নামই হচ্ছে ঈমান যেটাকে নাস্তিকরা অন্ধ বিশ্বাস বলে দাবী করে। তাদের এই দাবী দাঁড়িয়ে আছে যে যুক্তির উপরে সেই যুক্তিও কিন্তু বিশ্বজগৎ সৃষ্টির রহস্যের কোন জবাব দিতে সক্ষম নয়। যুক্তির কবর খুঁড়তে খুঁড়তে তারাও একসময় অসহায় হয়ে পড়েন, তাদের চিন্তার জগতের গোড়াও বিশ্বাসের উপরেই দাঁড়িয়ে কিন্তু তারা দাবী করেন অযৌক্তিক কিছু তারা করতে পারেন না। অথচ বিশ্বজগৎ সৃষ্টির রহস্যের জবাবে কোনরকম যুক্তির ধার না ধেরেই তারা বিশ্বাস করে বসে আছেন সবকিছু এমনি এমনি হয়ে গিয়েছে। যুক্তিবাজদের এহেন অযৌক্তিক আচরণ সত্যিই বিস্ময়কর!
স্ববিরোধী ও অযৌক্তিক বিশ্বাসের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা নাস্তিকদের সৃষ্টিকর্তার স্রষ্ট্রা খুঁজতে যাওয়া একধরনের স্ববিরোধীতাই বটে।
বিঃদ্রঃ সিস্টেমের ভেতরে বসে সিস্টেমের ক্রিয়েটরকে সিস্টেমের প‌্যারামিটার দিয়ে যাচাই করতে যাওয়া এক ধরনের অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক কাজ। এই অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক কাজ যারা করেন তাদের (নাস্তিকদের) সাথে যুক্তি দেয়া অর্থহীন বিবেচনা করে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও সৃষ্টিকর্তার স্রষ্ট্রা বিষয়ক যুক্তি দিয়ে সময় নষ্ট করার পক্ষপাতী নই। তবুও কেউ ঐ বিষয়ে আলোচনায় যেতে চাইলে একটা লেখা পড়তে পারেন-

“সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” – এই প্রশ্নের সরল উত্তর


“মুক্তমনা” নাস্তিকরা, “ডি-জুস”-কালচারে-বড়-হওয়া নিজের দ্বীন-সম্বন্ধে-একেবারে-অজ্ঞ কোন কিশোর বা তরুণকে যে ক’টি প্রশ্ন করে ভড়কে দেয়, তার একটি হচ্ছে: “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” অথচ, একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, এই প্রশ্নটা সেই গ্রাম্য “শঠ-পন্ডিতের” সাথে “সত্যিকার পন্ডিতের” বিতর্কের প্রসিদ্ধ গল্পের মত – যেখানে “শঠ-পন্ডিত” তার প্রতিদ্বন্দিকে জিজ্ঞেস করেছিল: I don’t know – মানে কি?
চলুন দেখি “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” এই প্রশ্নের একটা সরল উত্তর ভেবে দেখা যাক:

স্রষ্টা এমন সত্তা যিনি সৃষ্ট নন, তিনি অস্তিত্বে আসনে নি বরং সর্বদা অস্তত্বিশীল এবং তিনি সৃষ্টিজগতের স্থান-কাল কাঠামোর অংশ নন ৷ আর এজন্যই তিনি অসৃষ্ট বা অবস্তু, ফলে তাঁর সৃষ্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই ৷ এজন্য স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন, এই প্রশ্নটিই অবান্তর ৷ যেমন একটি ছবি কে এঁকেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয় ৷ তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব ৷ একইভাবে “সৃষ্ট নন”, এমন একজন স্রষ্টা থাকা সম্ভব, তাই বার্ট্রান্ড রাসেলের “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” এই প্রশ্ন করা অযৌক্তিক, অবান্তর, বোকামী ৷ আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক ৷ ধরা যাক আপনি অনেক দীর্ঘ একটি তাসের সারির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি দেখছেন একটি একটি করে তাস পড়ে যাচেছ এবং পড়ে যাওয়ার সময় সে পরের তাসটিকে ধাক্কা দিচ্ছে, ফলে পরের তাসটিও পড়ে যাচেছ, এভাবে একটি তাসের পতনের কারণ হচ্ছে তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, এভাবে যেতে থাকলে একটি তাসে গিয়ে আপনাকে থামতেই হবে যেটি প্রথম তাস ৷ এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, প্রথম তাসের পতনের কারণ কি? উত্তরে বলা যাবে না যে সেটিও একটি তাস, ফলে বুঝতে হবে যে প্রথম তাসের পতনের কারণ এমন কিছু যে নিজে তাস নয় ৷ হয়ত সে একজন মানুষ যে প্রথম তাসটিকে টোকা দিয়েছে ৷ এই মানুষটি যেহেতু তাস নয়, সেজন্য তাসের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যসূচক প্রশ্ন করা যাবে, এই মানুষের ক্ষেত্রে তা করা যাবে না ৷ যেমন তাসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যায় যে “তাসটি কি হরতন না ইস্কাপন?”, কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি অবান্তর ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তাসের পতনের পেছনে আদি কারণ হিসেবে মানুষ থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ ঠিক তেমনি স্রষ্টা যেহেতু সৃষ্টি নন কিংবা ফল নন, সেহেতু “তাঁর স্রষ্টা কে?” বা “কারণ কি?” এই প্রশ্নগুলি তাঁর বেলায় প্রযোজ্য নয় – কিন্তু তাঁর থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ এখানে আপাতদৃষ্টিতে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, যদি স্রষ্টাকে অস্তিত্বে আনার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেই, তবে খোদ মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেই একথা ধরে নেই না কেন ? এর কারণ এই যে, মহাবিশ্ব কোন “জ্ঞানসম্পন্ন সত্তা” নয় যে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরিচালনা করতে পারে। বরং মহাবিশ্বের সকল ব্যবস্থা ও সকল অংশ ইংগিত করছে যে, তা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। এজন্য কোন স্রষ্টা ব্যতীত মহাবিশ্বের স্বয়ংসর্ম্পূণ অস্তিত্বের ধারণা সর্ম্পূণ যুক্তি বিরোধী, তাই এক্ষেত্রে একমাত্র যৌক্তিক সম্ভাবনা হচ্ছে এই যে, এর একজন জ্ঞানী স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী থাকতে হবে যিনি নিজে সৃষ্ট নন।


আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয় নিরসন: আল্লাহ তায়ালাকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি কিভাবে পয়দা হলেন?

আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয় নিরসন: আল্লাহ তায়ালাকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি কিভাবে পয়দা হলেন?


প্রশ্ন: আমি একজন গুনাহ্‌গার মুসলমান। দীর্ঘকাল অনৈসলামিক জীবন যাপন করেছি। কিছুদিন যাবত আমি ইবাদত ও কুরআন পাঠের আগ্রহ অনুভব করছি। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এর সাথে সাথেই আমার মনে নানা রকম সন্দেহ সংশয় জন্ম নিচ্ছে। আমি এগুলোকে চাপা দিতে চেষ্টা করছি। কিন্তু আশংকা হয় যে, এ সব সংশয় দূর করা না হলে এই বার্ধক্যে এসেও আবার আমার ইবাদত পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় আমি গোমরাহীতে লিপ্ত হয়ে বসতে পারি। যে সংশয়টি বারবার আমার মনে জাগে, তা আমি মুখে উচ্চারণ করতে চাইনে। কিন্তু সেটি শুধু এ জন্য আপনার কাছে পেশ করছি, যেন আপনি আমাকে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করতে পারেন। যে প্রশ্নটি থেকে থেকে আমার মনে জাগে, তা এই যে, আল্লাহ তায়ালাকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি কিভাবে পয়দা হলেন? আল্লাহর দোহাই, আপনি আমার এই সংশয় দূর করে দিন, যাতে আমি এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে নিষ্কৃতি পাই।



জবাব: আপনি যে প্রশ্ন ও সংশয়ের কথা স্বীয় চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের প্রশ্ন মানুষের মনে জাগা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়।



আপনি যদি সামান্য একটু  চিন্তাভাবনা করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে, এ ধরনের সন্দেহ শুধু আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসীদের মনেই জন্মে না, যে কোনো নাস্তিক সংশয়বাদী ও খোদাদ্রোহীতার মনেও এ ধরনের প্রশ্নাবলী জন্ম নিয়ে থাকে। যে ব্যক্তি দৃশ্যমান বিশ্বজগতের উর্ধে বা বাইরে এর কোনো স্রষ্টার অস্তিত্ব মানে না, অথবা সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ সংশয় বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে, তাকে কয়েকটা প্রশ্ন অত্যন্ত প্রবলভাবে নাড়া দেয় এবং জবাব দেবার দাবি জানায়। যেমন, এই সৃষ্টি জগতের প্রথম উদ্ভব কিভাবে হয়, এর আর্বিভাবের আসল কারণ বা উৎস কি, জীবন, শক্তি, পদার্থ ও বির্বতনের যে অসংখ্য প্রতীক বা বাহন আমাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে, সে সবের সূচনা কবে ও কিভাবে হয়েছিল এবং কে করেছিল? এ ধরনের প্রশ্ন কোনো না কোনোভাবে প্রত্যেক মানুষকেই বিব্রত করে থাকে-তা সে বিশ্বাসীই হোক, সংশয়বাদী হোক অথবা নাস্তিক হোক।

এরপর আরো একটু চিন্তাভাবনা করলে এ ব্যাপারেও সহজেই ধারণা লাভ করা যায় যে, বিশ্ব প্রকৃতির আবির্ভাব ও তার স্রষ্টা সংক্রান্ত এ ধরনের যাবতীয় প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব নিছক নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তি, প্রজ্ঞা, চেষ্টা সাধনা ও তত্ত্বানুসন্ধান দ্বারা লাভ করা প্রত্যেক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশ্ব স্রষ্টার সত্তা ও গুণাবলীর কল্পনা করাটা অবশ্য অনেক উর্ধের ব্যাপার। তথাপি আমরা যদি ক্ষণকালের জন্য মহাবিশ্বের বাইরেও তার চেয়ে উচ্চতর ও ক্ষমতাধর কোনো শক্তি বা সত্তা এর স্রষ্টা হিসেবে বিদ্যমান আছে কিনা সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাই এবং শুধুমাত্র সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব মেনে নিয়েই ভাবতে শুরু করি, তাহলেও স্থান ও কালের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বাস্তব ও কাল্পনিক বিষয় এমন রয়েছে, যা পুরোপুরিভাবে আমাদের বোধশক্তির নাগালে আসতে অক্ষম। এ সব জিনিসের ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি এতো বেশি যে, তা আয়ত্বে আনা তো দূরের কথা, একটা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে তার কল্পনা করতেও আমরা অপারগ। উদাহরণস্বরূপ, কালের আদি অন্ত সম্পর্কে আমরা কি ভাবতে পারি যে, তার সূচনা কিভাবে ও কখন হয়েছে এবং তা কোথায় গিয়ে কিভাবে সমাপ্ত হবে? সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র,এবং অন্তরীক্ষের অন্যান্য বস্তু যে মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে, সে মহাশূন্যের সীমা সরহদ কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে, এই মহাশূন্যের সীমার ওপারে কোন্‌ জগত বিরাজ করছে, কল্পনার চোখ দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরেও কি তা দেখার সাধ্য কারো আছে? এ ধরনের দু'একটা উদাহরণ দ্বারাই এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমাদের চিন্তাশক্তি ও বোধশক্তির ক্ষমতা খুবই সীমিত। আমাদের চিন্তাশক্তি ও বোধশক্তির স্বাভাবিক পরিধিই এতো সংকীর্ণ ও সংকুচিত যে, একটা নির্দিষ্ট স্তর পেরিয়ে কোনো কিছু কল্পনা করাও তার পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব। মানবীয় বিবেক বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি যখন এতোই অক্ষম ও সীমাবদ্ধ যে, সে সৃষ্টির রহস্যও পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারেনা। তখন সে স্রষ্টার আদি অন্ত কিভাবে উপলব্ধি করতে পারবে?

বিশ্বস্রষ্টা সংক্রান্ত সংশয় যদি নিছুক ব্যাকুলতার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে যা অনিচ্ছা বশতই অন্তরে অনুপ্রবেশ করে থাকে, তবে তা থেকে কোনো ঈমানদার মুক্ত থাকতে পারে না। বরঞ্চ রসূল সা. একে ঈমানের সুস্পষ্ট আলামত বলে আখ্যায়িত করেছেন। চোর দস্যু সেই গৃহেই হানা দেয়, যেখানে ধনসম্পদ বিদ্যমান। কাজেই ঈমানের সম্পদে সমৃদ্ধ যে হৃদয়, তাকে এ ধরনের আক্রমনের শিকার হতেই হবে। তাই এ ধরণের চিন্তাভাবনা যদি অন্তরে শুধু আসা যাওয়া করে তবে সেটা তেমন উদ্বেগজনক ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা উদ্বেগজনক ও শাস্তিযোগ্য হবে তখনই, যখন মুমিন এসব কুপ্ররোচনাকে গুরুত্ব দেবে এবং একে অন্তরে প্রশ্রয় দিয়ে বদ্ধমূল করে লালন করবে ও ফলবান হবার সুযোগ দেবে। অথবা সচেতনভাবে এ প্রশ্নগুলোকে সমাধানযোগ্য মনে করে এর জবাব লাভের ব্যর্থ চেষ্টায় নিয়োজিত হবে এবং তার চর্চা ও প্রচারে আত্মনিয়োগ করবে। শেষোক্ত কর্মপন্থা একজন মুসলমানের পক্ষে মোটেই সঙ্গত নয়। ইসলাম আমাদেরকে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছে, সেটা মনে বদ্ধমূল রাখলে আমরা এ কর্মপন্থা কখনো অবলম্বন করতে পারিনা। কুরআন ও হাদিসে আল্লাহর যে গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করলে বুঝা যায় যে, আল্লাহর গুণাবলীকে অনুরূপ মানবীয় গুণাবলীর সাথে তুলনা করা সম্ভব নয়। উভয়ের মাঝে প্রকৃতপক্ষে কোনো সাদৃশ্যও নেই। এ জন্যই কুরআনে বলা হয়েছে যে, ----------------------- 'তাঁর সমতুল্য কিছুই নেই।' মানবীয় গুণাবলী সীমাবদ্ধ এবং বহিরাগত ও বস্তুগত সহায়ের মুখাপেক্ষী। আবার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তা বাধাবন্ধনহীন ও বহিরাগত সহায়ের ধার ধারেনা। দৃষ্টিশক্তি আমাদেরও আছে। তবে তা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ। তাছাড়া আমাদের দৃষ্টিশক্তির এসব সীমা ও বাধার ঊর্ধে। আমরাও শ্রবণ করি। কিন্তু আমাদের শ্রবণের জন্য কান ও বাতাসের সহায়তা প্রয়োজন। অথচ আল্লাহর শ্রবণের জন্য এসব মাধ্যমের কোনো প্রয়োজন নেই। জীবন ও অস্তিত্ব আমাদেরও আছে, তবে তা বহিরাগত সহায়ক শক্তি ও বস্তুর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আল্লাহর জীবন ও অস্তিত্ব সম্পূর্ণ স্বনির্ভর। তিনি এমন চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্তা, যিনি আপন শক্তিতেই বহাল আছেন এবং সব কিছুতেই বহাল রেখেছেন। এভাবে চিন্তা গবেষণা চালালে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে উঠবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব সঠিক ও প্রকৃত অর্থেই অনাদি ও অনন্ত। চিরস্থায়ী জীবন ও নিরবিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব তাঁর অমর, অক্ষয় ও অবিনশ্বর সত্তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর জন্ম ও আবির্ভাবের প্রশ্ন তোলা দুটো পরস্পর বিরোধী জিনিসের একত্র সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। যিনি নিজের অস্তিত্ব লাভের জন্য আরেক স্রষ্টার মুখাপেক্ষী হন, তিনি আবার কেমন স্রষ্টা?

এই দিব্য সত্যকে আল্লাহ তায়ালা এভাবে ব্যক্ত করেছেন :
--------------------------------------------------------
কুরআনের এ উক্তির অত্যন্ত চমকপ্রদ ও মনোজ্ঞ ব্যাখ্যা রসূল সা. এভাবে করেছেন :
------------------------------------------------------------------------
"তিনি প্রথম। তাঁর পূর্বে কিছু নেই, তিনি শেষ তাঁর পরে কিছু নেই। তিনিই প্রকাশ্য। তাঁর ঊর্ধ্বে কিছু নেই। তিনিই গোপন, তাঁর কাছে গোপনীয় কিছু নেই।"

সর্বশেষে, অন্তরে অনুপ্রবেশকারী কু-প্ররোচনা সম্পর্কে রসূল সা.-এর কয়েকটি হাদিস উদ্ধৃত করেছি। আল্লাহ চাহে তো এতে আপনার সকল দুশ্চিন্তা ও সংশয়য়ের অবসান ঘটবে :
--------------------------------------------------------------------------- 
"আবু হুরায়রা রা, থেকে বর্ণিত যে রসূল সা. বলেছেন : আল্লাহ আমার উম্মতের মনের যাবতীয় কুচিন্তা ও সন্দেহ সংশয়কে মাফ করে দিয়েছেন, যদি না সে তা কার্যে পরিণত করে কিংবা কারো সাথে আলোচনা করে।"
--------------------------------------------------------------------------
"ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত : এক ব্যক্তি রসূর সা.- এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো আমার মনে মাঝে মাঝে এমন সব কুচিন্তা আসে, যা মুখে প্রকাশ করার চেয়ে আমি পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া অধিকতর পছন্দ করি। রসূর সা. বললেন : আল্লাহর শোকর যে, তিনি এ ব্যাপারটিকে কেবল কুচিন্তার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।"
-------------------------------------------------------------------------
"আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রসূল সা. বলেছেন : মানুষ নানা রকমের প্রশ্নোত্তর করতে থাকবে। এমনকি এক সময় এ প্রশ্নও তোলা হবে যে, আল্লাহ তো এই গোটা জগতের সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যে ব্যক্তির সামনে এ জাতীয় কথাবার্তা উচ্চারিত হবে সে যেনো বলে আমি শুধু এটুকুই যথেষ্ট মনে করি যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের উপর ঈমান এনেছি।"

আর একবার রসূল সা. বলেন : এ ধরণের কুচিন্তার উদ্ভবকালে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে এবং ওখানেই থেমে থাকবে। যে ব্যক্তি এখানে থামবেনা এবং কল্পনার লাগাম টেনে ধরবেনা, তার গোমরাহীর সীমাহীন প্রান্তরে উদভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়ানো ছাড়া আর কোনো লাভ হবেনা। [তরজমানুল কুরআন, এপ্রিল ১৯৫৪]

২. প্রশ্ন : আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। এখন আমি জীবনের এমন একটা সময় অতিক্রম করছি, যখন মানসপটে যে ছবিই অংকিত হয়, তা হয় আনন্দ ও তৃপ্তির উৎস, নয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে চিরস্থায়ী হয়ে যায়। এক সময় ধর্মের প্রতি খুবই অনুরাগী ছিলাম। কিন্তু এখন আমার মনে বিশ্বাসের পরিবর্তে নানা রকমের সন্দেহ সংশয় জন্ম নিতে শুরু করেছে। আমি নামাজও পড়ি। তবে তা নিতান্তই প্রথাসিদ্ধ কাজ হিসেবে। আমার মনে যেসব ধ্যান ধারণার উদ্ভব হয়, তা আপনার কাছে তুলে ধরছি।

আল্লাহর অস্তিত্বকে বিজ্ঞানের সূত্রগুলোর আলোকে কিভাবে প্রমাণ করা যায়? এমনটি হওয়া কি সম্ভব নয় যে, আদিম যুগের মানুষ এ ধারণাটা উদ্ভাবন করে নিয়েছিল এবং তার পর এটা পুরুষানুক্রমে আমাদের পর্যন্ত হস্তান্তরিত হয়েছে? সে সময় মানুষ প্রকৃতির নিয়ম ও বিশ্বজগতের বস্তু নিচয়ের রহস্য জানতো না। কিন্তু আজ সে বিশ্বচরাচরের যাবতীয় রহস্য জেনে ফেলেছে এবং স্রষ্টার বিশ্বাসের প্রয়োজন কি, তা অনেকের বুঝে আসেনা। আল্লাহর অস্তিত্ব মেনে নিলেও কিছু কিছু তত্ত্ব বুদ্ধির অগম্য মনে হয়। রসূল সা.-এর মিরাজ শারীরিকভাবে হয়েছিল এ কথাই এ যাবত শুনে এসেছি। কিন্তু প্রাকৃতিক জগতে মাধ্যাকর্ষণ ও মহাশূন্য সংক্রান্ত অন্য যেসব নিয়ম চালু রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা বুঝে আসেনা। অন্যান্য মোযেজা বা অলৌকিক ঘটনার ক্ষেত্রেও একই জটিলতা দেখা দেয় যে, প্রাকৃতিক নিয়ম লংঘন না করে ঐ ঘটনাগুলো ঘটতে পারেনা। অথচ আল্লাহ তাঁর নিয়ম-কানুনে পরিবর্তন ঘটান না। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলে কি পৃথিবী ধ্বংস না হয়ে পারে?

জবাব : আপনার মনে যে প্রশ্নগুলোর উদ্ভব হচ্ছে, তা কোনো তাজ্জবের ব্যাপার নয়। যে কোনো চিন্তশীল মানুষের মনে এ ধরণের প্রশ্ন জাগতে পারে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করা কোনো মানুষেরই উচিৎ নয়, যাতে তার লাগামহীন প্রবৃত্তির বাসনা চরিতার্থ হয় এবং যা তাকে জড় পদার্থ, গাছপালা কিংবা পশুপাখির মতো নৈতিক চেতনাহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বানিয়ে দেয়। এ ধরণের উত্তর অনুসন্ধান থেকে নিবৃত্ত থাকাতেই তার কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত। পৃথিবীতে যারা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে তাদের অধিকাংশেরই অস্বীকৃতির একমাত্র কারণ এই যে, আল্লাহকে মেনে নিলে তাদেরকে কতিপয় বিধিনিষেধের অধীন জীবনযাপন করতে হয়। তা না হলে আপনি ভেবে দেখুন তো, একজন বিজ্ঞানীর কাছে আল্লাহকে অস্বীকার করার পক্ষে কি যুক্তি প্রমাণ থাকতে পারে? বিজ্ঞান তো শুধু পার্থিব জগত নিয়েই আলোচনা গবেষণা করে, যা বস্তু ও শক্তি নিয়েই গঠিত অথচ এই বিজ্ঞানই স্বীকার করে যে, এই বস্তু জগৎ অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান নয়, আপনা আপনিও গঠিত হয়নি এবং তা অনন্তকাল স্থায়ী হতেও সক্ষম নয়, তেমনি কিভাবে নির্জীব পদার্থের জীবনের আবির্ভাব ঘটে এবং কিভাবেই বা তা বিলুপ্ত হয়, সে কথাও বলতে পারে না। মহাবিশ্বের এমন কোনো সীমাপরিসীমা নেই এবং তার সীমানার এমন কোনো প্রথম প্রান্ত ও শেষ প্রান্ত নেই, যা মানুষের নাগালে আসতে পারে। এমতাবস্থায় মহাবিশ্বের এমন একজন সৃষ্টিকর্তা ও নির্মাতার অস্তিত্ব মেনে নেয়া ছাড়া গতান্তর নেই যিনি গোটা বিশ্বের চেয়েও বিরাট ও বিশাল এবং যার অবস্থান বিশ্বজগতের ঊর্ধে ও নেপথ্যে। এছাড়া রহস্যের উন্মেচন আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অন্তত: এটুকু যুক্তির আওতায় এবং এই ব্যাখ্যার আলোকে আল্লাহর অস্তিত্বকে প্রত্যেক উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানীই স্বীকার করে থাকেন এবং কোনো বিজ্ঞানীই আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন না।

১. কয়েক বছর আগে আমেরিকায় দুনিয়ার সর্বাপেক্ষা নামকরা চল্লিশজন বিজ্ঞানীর নিবন্ধন সম্বলিত একখানা বই প্রকাশিত হয়েছে। এই বিজ্ঞানীদের প্রত্যেকেই আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন এবং তার স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন্ 'খুদা মওজুদ হায়' এই শিরোনামে লাহোরের প্রাংকলিন প্রকাশনী উর্দুতে এবং 'চল্লিশজন সেরা বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে আল্লাহর অস্তিত্ব' এই শিরোনামে ঢাকায় একটি প্রকাশনী বাংলায় পুস্তকটি প্রকাশ করে। এরপর যে প্রশ্ন বাকি থাকে তা হলে, আল্লাহ যদি থেকে থাকেন তবে তিনি কেমন সত্তা ও গুণাবলীর অধিকারি? তাঁর ইচ্ছে ও মর্জি কি এবং মানুষের কাছে তিনি কি চান? এসব প্রশ্নের জবাব কেউ নিজস্ব বুদ্ধি ও যুক্তির উপর নির্ভর করে দিতে পারেন না-তা তিনি বিজ্ঞানীই হোন বা অবিজ্ঞানীই হোন। এর জবাব যে অকাট্য সত্য, সে ব্যাপারে তাঁর নির্মল ও নিষ্কলুষ চরিত্রই সাক্ষী।

২. ধর্ম ও আল্লাহ সংক্রান্ত বিশ্বাস নিছক মানবীয় মস্তিষ্কের আবিষ্কার এ কথা যদিও সঠিক নয়, তবু প্রশ্ন এই যে, একটি ধারণা বিশ্বাস মানবীয় মনমস্তিষ্ক থেকে উদ্ভুত বলেই কি বাস্তবে তার অস্তিত্ব থাকতে পারেনা? মানুষের মস্তিষ্কজাত হওয়াই কি অবাস্তব প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে? এমন কি হতে পারেনা যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আসলেই একটা জ্বলন্ত সত্য এবং মানুষের মনে তারই প্রতিবিম্ব রেখাপাত করে? মানুষের মনমস্তিষ্ক যে আবহমানকাল ধরে আল্লাহর অস্তিত্বের ধারণা পোষণ করে আসছে, এর দ্বারা কিভাবে প্রমাণিত হয় যে আল্লাহ নেই? এটা তো বরং আল্লাহর অস্তিত্বেরই একটি প্রমাণ।

এই যু্ক্তিটাও সম্পর্ণ ভ্রান্ত যে, প্রকৃতির নিয়ম আগেকার যুগের মানুষের জানা ছিলনা বলেই তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। প্রশ্ন এই যে, প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক রীতি সংক্রান্ত যাবতীয় গুপ্ত রহস্য ও বিস্তৃত তত্ত্ব তথ্য কি মানুষ ইতিমধ্যে জেনে ফেলেছে, কিংবা কখনো তা জানতে পারবে? আপনি কি আমাকে এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন যে, অসংখ্য জ্যোতিষ্কপিন্ডে ভরপুর এই মহাবিশ্বের শেষ কোথায় এবং সেই শেষ প্রান্তের ওপারে কি আছে? ধরে নিলাম, সমস্ত প্রাকৃতিক নিয়ম আপনি রপ্ত করে ফেলেছেন। তথাপি আপনি কি আমাকে বলতে পারবেন এই রহস্যঘেরা নীরব নিঝুম প্রকৃতির এসব নিয়ম রীতি কার তৈরি এবং প্রকৃতির এই সব উপাদানকে ঐ নিয়ম রীতি মেনে চলতে কে বাধ্য ও বশীভূত করে রেখেছে?

৩. মিরাজ শারীরিক না আত্মিকভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে যদিও পূর্বতন মুসলিম মনীষীদের মধ্যে কিছু মতভেদ হয়েছে, তবে আমাদের মতে, সঠিক তথ্য এই যে, এটা একসাথে শরীরিক ও আত্মিক উভয়ভাবেই সংঘটিত হয়েছিল। মিরাজ, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত এবং এ ধরনের অন্যান্য অলৌকিক ঘটনাবলী সম্পর্কে যাবতীয় প্রশ্ন কেবল তখনই জন্মে যখন মানুষ তার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে প্রতিটি বিষয় পর্যবেক্ষণ ও তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। সে মনে করে, এই বিশ্বপ্রকৃতি যেমন কতিপয় আইন কানুনের অধীন, তেমনি এ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তাও এসব আইন কানুনের অনুগত ভৃত্য এবং নিজের তৈরি নিয়মবিধির শৃংখলে তিনি নিজেও বাঁধা। অথচ এ ধারণাটা মূলতই ভুল ও বাতিল। আল্লাহ যখন ইচ্ছে নিজের আইন-কানুন ও নিয়ম রীতিতে রদবদল ঘটাতে পারেন এবং সেই রদবদলও তাঁর আইন অনুসারেই হবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রচলিত নিয়ম এই যে, আল্লাহ নর ও নারীর মিলনক্রমে মানুষ সৃষ্টি করে থাকেন। কিন্তু নর ও নারীর এই মিলন মানব সৃষ্টির কোনো চিরন্তন ও অলংঘনীয় বিধান হতে পারেনা। আল্লাহ ইচ্ছে করলে এ ছাড়াও মানুষ সৃষ্টি করে সক্ষম।

অনুরূপভাবে আল্লাহ ইচ্ছে করলে মধ্যাকর্ষণের বিধানকে নিষ্ক্রীয় করে দিতে পারেন এবং স্বীয় বান্দাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন, যেখানে তাঁর জ্যোতি বিচ্ছুরিত ও কেন্দ্রিভূত। আল্লাহ ইচ্ছে করলে কিছুক্ষণের জন্য চাঁদকে দু'টুকরো করে দিতে এবং পৃথিবী ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক পিণ্ডকে তার প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারেন। একথা নি:সন্দেহে সত্য যে, আল্লাহর বিধান অটল ও তাঁর সিদ্ধান্ত অকাট্য। তিনি এগুলোর রদবদল করেন না। কিন্তু আল্লাহর বিধান কি এবং তাঁর সিদ্ধান্তগুলোই বা কি, সেটা আমরা কেমন করে জানবো। আল্লাহ যে জিনিসকে নিজের বিধান বলে মনে করেন, তা অবশ্যই অপরিবর্তনীয়। কিন্তু যে জিনিসকে আমরা আল্লাহর বিধান বলে মনে করি, তাতে সব সময়ই পরিবর্তন ঘটা সম্ভব। যেমন এক ব্যক্তি মনে করে যে, সূর্য সব সময় পূর্ব দিক থেকে উঠবে বা উঠতে দেখা যাবে এটাই আল্লাহর বিধান। কিন্তু আল্লাহর বিধান এমনও হতে পারে যে, এক দিন তার গতিবিধি পাল্টে দেয়া হবে কিংবা তার অস্তিত্বই বিলুপ্ত করা হবে। এ কথাও মনে রাখা দরকার যে, কুরআনে 'মুন্সায়াতুল্লাহ' বা 'আল্লাহর বিধান' কথাটি দ্বারা সর্বোতভাবে প্রাকৃতিক নিয়ম রীতিকে বুঝানো হয়নি, বরং নৈতিক ও চারিত্রিক বিধানকে বুঝানো হয়েছে, যা পৃথিবীর জাতিসমূহের ও মানব সভ্যতার উত্থান পতন অথবা বিবর্তন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। আর এটাও এমন কোনো ধরাবাধা একক বিধান নয়, বরং অত্যন্ত ব্যাপক ও বিজ্ঞানসম্মত এক নীতিমালা, যা মানব জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে চালু ও কার্যকর রয়েছে। [তরজামানুল কু্রআন, ডিসেম্বর ১৯৭৪]  রাসায়েল ও মাসায়েল ৬ষ্ঠ খন্ড

লিখেছেন: সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী           

Source: http://www.islam.net.bd
নাস্তিকের প্রশ্নের জবাব । সাঈদী । Nastiker Proshner Jobab । Sayedee । CHP

Friday, March 28, 2014

নাস্তিকদের প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলার স্রষ্টা কে? প্রশ্নটি যৌক্তিক না অবান্তর?

নাস্তিকদের প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলার স্রষ্টা কে? প্রশ্নটি যৌক্তিক না অবান্তর?


প্রশ্ন
নাস্তিকরা প্রশ্ন করে থাকে যে, আল্লাহ তাআলাকে কে সৃষ্টি করেছে? এর জবাব কি?
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। সব কিছুর স্রষ্টা যিনি তাকে আবার কে সৃষ্টি করবে? এটাতো বোকামীসূলভ প্রশ্ন। কারণ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব কিছুর স্রষ্টা যখন, তখন তার আগেতো কেউ থাকতে পারে না।  তার আগে কেউ না থাকায় তাঁকে কেউ সৃষ্টি করবে কিভাবে? তাকে সৃষ্টির প্রশ্ন করাটাইতো অবান্তর।
আল্লাহ তাআলা সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى [٨٧:١] الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ [٨٧:٢] وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ [٨٧:٣]
আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন। {সূরা আলা-১-৩}
وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ۚ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ ۚ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ [٢٧:٨٨]
তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন। [সূরা নমল-৮৮}
قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ [٢٠:٥٠]
মূসা বললেনঃ আমাদের পালনকর্তা তিনি,যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। {সূরা ত্বহা-৫০}
আল্লাহ তাআলাকে কে সৃষ্টি করেছেন? প্রশ্নটি স্ববিরোধী প্রশ্ন
আল্লাহ তাআলা স্রষ্টা। যিনি স্রষ্টা তিনি যদি সৃষ্টি হন, তাহলে মৌলিক স্রষ্টাতো আর তিনি বাকিই থাকেন না। কারণ তখন তাঁকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি হয়ে যাচ্ছেন মূল স্রষ্টা। এক্ষেত্রেতো আল্লাহ তাআলা মূল স্রষ্টা হিসেবে আর বাকি থাকবেন না। তাই আল্লাহ তাআলাকে স্রষ্টা মানার পর তাঁর স্রষ্টা কে? এ প্রশ্ন করাটাই অযৌক্তিক ও বোকামী।
এছাড়া এ প্রশ্ন করার দ্বারা ক্রমান্বয়িক অসীম প্রশ্নধারার পথ খোলা হয়। যার কোন শেষ কোনদিন হবে না। কারণ যদি বলা হয় যে, আল্লাহর স্রষ্টা ওমুক [নাউজুবিল্লাহ]।
তাহলে আবার প্রশ্ন হবে- ওমুকের স্রষ্টা কে? যদি কারো নাম উচ্চারণ করা হয়, তাহলে আবার প্রশ্ন আসবে- ওমুকের স্রষ্টা কে? এভাবে ক্রমধারায় অসীম প্রশ্নের দ্বার উন্মোচিত হবে। যার কোন সীমা-পরিসীমা আর বাকি থাকবে না। চলতেই থাকবে এ প্রশ্ন। তাই এরকম প্রশ্ন অযৌক্তিক ও বোকামীসূলভ প্রশ্ন।
এ প্রশ্নটি শয়তানের প্রশ্ন
قال أبو هريرة رضي الله عنه : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( يأتي الشيطان أحدكم فيقول من خلق كذا من خلق كذا حتى يقول من خلق ربك ؟ فإذا بلغه فليستعذ بالله ولينته )
হযতর আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কারো কাছে শয়তান আসতে পারে, এবং সে বলতে পারে যে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ঐ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমাদের প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং বিরত থাকে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩১০২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৩৬২, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-২৩৬}
عن عائشة عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : إن الشيطان يأتي أحدكم فيقول : من خلق السماوات ؟ فيقول : الله فيقول : من خلق الأرض ؟ فيقول : الله فيقول : من خلق الله ؟ فإذا كان ذلك فليقل : آمنت بالله ورسله
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলতে পারে- আসমানসমূহ কে সৃষ্টি করেছে? সে বলবে, আল্লাহ। তারপর শয়তান প্রশ্ন করবে- জমীন কে সৃষ্টি করেছে? জবাবে সে বলবে-আল্লাহ তাআলা। তারপর শয়তান বলবে- আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এ পর্যন্ত এসে যাবে তাহলে বলবে- আমি আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান এনেছি। {মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪৭০৪, মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল, হাদীস নং-২১৯১৬, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ,হাদীস নং-২১৫, আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৩৭১৯}
والله اعلم بالصواب
     উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
lutforfarazi@yahoo.com

Source: jamiatulasad.com
.......................................................................................................

সূরা এখলাছ ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত সংখাঃ ৪

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

01. বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,

اللَّهُ الصَّمَدُ

02. আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

03. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

04. এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।


............................................................................................................
সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে ?

আমাদের চারপাশে এই যে মহাবিশ্ব, সূর্য্য চন্দ্র আমি আপনি এই সব কিছু নিয়েই কিন্তু আমাদের প্রকৃতি বা Nature. মানুষ হচ্ছে এই প্রকৃতির মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জীব। আচ্ছা মানুষ কি নিজে নিজে বাচঁতে পারে ? না মানুষকে খাদ্য গ্রহন করতে হয়, এই খাদ্য কিন্তু মানুষের শরীর থেকে উৎপন্ন হয় না। মানুষ এই খাদ্য উদ্ভিদ প্রাণীকূল থেকে সংগ্রহ করে। তাই বলা যায় মানুষ একটা পরাধীন সত্ত্বা। প্রকৃতির মাঝে এমন কোন প্রাণী নেই যেটা নিজে নিজে বাচতে পারে। প্রত্যেকটা প্রানীই বেচে থাকার জন্য একজন আরেকজনের উপর নির্ভরশীল। আবার মানুষ চাইলেই সব কিছু করতে পারে না। মানুষ কিন্তু কোন মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষ এই মহাবিশ্বের মাঝে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী কিন্তু মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় কোন মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি করা তাই আমরা ধরে নিতে পারি যে প্রকৃতির মাঝে আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয় কোন মৌলিক পদার্থ একদম নতুন ভাবে সৃষ্টি করা। আবার মানুষ আকার আয়তনে সীমিত। সে চাইলেও তার থেকে খুব ভারী কোন জিনিস উত্তোলন করতে পারে না। আবার মানুষ চাইলেও মৃত্যুকে ঠেকাতে পারবে না, তাই আমরা বলতে পারি মানুষ হল একটা সীমাবদ্ধ ও পরাধীন সত্ত্বা। শুধু মানুষ নয় আমাদের প্রকৃতির মাঝে আপনি এমন কোন সত্ত্বা খুজে পাবেন না যেটা Unlimited, infinite ও independent. Nature বা প্রকৃতির প্রত্যেকটা সত্ত্বাই Limited, Finite এবং একজন আরেকজনের প্রতি Dependent. এবং এই Nature বা প্রকৃতির কোন সত্ত্বাই মৌলিক কোন পদার্থ তৈরী করতে পারে না। সূর্য্য, চন্দ্র, গ্রহ নক্ষত্র এগুলিও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে চলে। এই মহাজাগতিক উপাদান গুলিও অসীম নয়। আকার আয়তনে সসীম। বলা হয় যে এই মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু মহাবিশ্বের এই প্রসারনটাও কিন্তু একটি সীমার মধ্য থেকেই হচ্ছে। মহাবিশ্ব যদি অসীমই হত তাইলে তো আর সে প্রসারিত হত না। তাছাড়া এই মহাবিশ্ব আবার সংকুচিত হয়ে তার পূর্বের সত্ত্বায় ফিরে আসবে। তাই এই মহাবিশ্বকে আমরা অনন্ত অসীম বলতে পারি না।
এখন প্রকৃতি বলতে আমরা কি বুঝি ? প্রকৃতি কিন্তু এই মহাবিশ্ব এই সকল প্রাণি জগত এই গুলির সমষ্টি। অনেক গুলি সীমাবদ্ধ বস্তুর সমষ্টি কিন্তু সীমাবদ্ধই হবে। ১, ২, ৩, এরকম আপনি যত সংখ্যাই যোগ করুন না কেন এগুলির সমষ্টি কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাই হবে। কখনই অসীম কোন সংখ্যা হবে না। যেহেতু প্রকৃতি বা Nature সব Dependent, finite এবং limited সত্ত্বার সমষ্টি তাই প্রকৃতিও একটা Dependent, finite এবং Limited সত্ত্বা। এখন প্রকৃতি যেহেতু নিজেই একটি সীমাবদ্ধ স্বত্বা এবং প্রকৃতির কোন সত্ত্বারই এই ক্ষমতা নেই যে নিজে থেকে কোন মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি করা তাই সম্মিলিত প্রকৃতিরও এই ক্ষমতা নেই যে এই মহাবিশ্বকে নিজে থেকে সৃষ্টি করা। তাই প্রকৃতি যদি নিজে নিজেকে সৃষ্টি না করতে পারে তাইলে এই প্রকৃতি এই মহাবিশ্ব কে কে সৃষ্টি করেছেন ? আমরা যদি এখন Rational Method বা স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করি তাইলে দেখব প্রকৃতিও যেহেতু নিজে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে না তাইলে এই প্রকৃতির অবশ্যই একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। সেই সৃষ্টিকর্তা কে অবশ্যই একটি স্বাধীন এবং অনন্ত অসীম সত্ত্বা হতে হবে। এবং এই সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই কারো প্রতি নির্ভরশীল হবেন না। এই সৃষ্টিকর্তার নামই হল আল্লাহ সুবহানাতায়ালা।
এখন প্রশ্ন হল এই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কে কে সৃষ্টি করেছেন ? এর ৩ টা উত্তর আছে। হয় আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে কেউ তৈরী করেছেন বা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজে নিজেকে তৈরী করেছেন অথবা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছেন একটি অনন্ত অসীম আজালী সত্ত্বা যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কে যদি কেউ সৃষ্টি করেন তাইলে তো আর তিনি আল্লাহই হলেন না। এখন ২য় শর্তে যদি যাই তাইলে দেখব যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজে নিজেকে তৈরি করেছেন। এটাও গ্রহনযোগ্য নয় কারন এটা করতে হলে আগে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে নিজের অস্তিত্ত্বে আসতে হবে এরপর নিজে নিজেকে তৈরী করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যদি আগেই অস্তিত্ত্বে এসেই পড়েন তাইলে আর নিজেকে সৃষ্টি করার কি দরকার ? তাইলে ৩য় শর্ত টাই ঠিক। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছেন একটি আজালী বা অনন্ত অসীম সত্ত্বা যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি। আল-কোরআনের সূরা ইখলাসে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন এটাই আমাদের মানতে হবে যে উনাকে কেঊ সৃষ্টি করেনি আর উনিও কাউকে জন্ম দেন নি উনি হলেন একটি আজালী বা অনন্ত অসীম সত্ত্বা। যখন কেউ ছিল না তখনও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ছিলেন আর যখন কেউ থাকবে না তখনো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা থাকবেন। আর মানুষ হচ্ছে একটি সসীম সত্ত্বা। একটি সসীম সত্ত্বা কখনই একটি অনন্ত অসীম আজালী সত্ত্বাকে বুঝতে পারবে না। একটা পাখি যেমন কোনদিন মানুষের মস্তিস্ক কে বুঝতে পারবে না, বিড়াল যেমন কখনো ল্যাপটপ কিভাবে চলে তা জানতে পারবে না ঠিক তেমনি আমরা মানুষেরাও কখনোই দুনিয়ার জীবনে পুরাপুরি ভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে বুঝতে পারবো না। আল-কোরআনে এবং সহীহ হাদীসে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজের সম্পর্কে যতটুকু বলেছেন ততটুকুর উপরই আমাদের কে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারন মানুষ হচ্ছে একটা সসীম সত্ত্বা আর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছেন একটা অনন্ত অসীম আজালী সত্ত্বা। আল্লাহর সত্ত্বা সম্পর্কে এর বেশী চিন্তা করলে আমাদের কে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে।
[ তথ্যসূত্রঃ আমি এই নোটটি লেখার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের প্রবাদ পুরুষ ফিলিস্তিনের শায়খ তাকিউদ্দিন আন নাবাহানীর লেখা নিজামুল ইসলাম/The System of islam/ইসলামী জীবন ব্যবস্থা এই বইয়ের সাহায্য নিয়েছি। ]    
Source: http://www.farabiblog.com


.................................................................................

সবকিছুই যদি আল্লাহ্‌ তৈরী করে থাকেন তো আল্লাহ্‌কে কে তৈরী করলো? বিভিন্ন সময় নাস্তিকদের বলতে শুনেছি যে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অন্ধবিশ্বাস মাত্র।  ঈশ্বর বিশ্বাস কি আসলেই একটা আবেগীয় ব্যাপার,  নাকি ঈশ্বরের অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমান আছে?

উত্তর: নাস্তিকেরা বলে থাকে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস একটি অন্ধবিশ্বাস। তারা বলে, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যায়না, ধরা যায় না, শুনা যায় না, লজিক দিয়ে প্রমাণ করে যায় না – কাজেই আল্লাহ্‌ বলে কিছু নেই। কিন্তু, বাস্তব হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। আর যদিও নাস্তিকেরা নিজেদেরকে যুক্তিবাদী বলে দাবী করে, কিন্তু সত্য হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব  যুক্তি বা লজিক দিয়ে প্রাচীণ কাল থেকেই প্রমাণিত হয়ে এসেছে।
বর্তমানে আমরা যে লজিক বা যুক্তিবিদ্যা পড়ি, তার আবিষ্কারক হলো প্রাচীণ গ্রীকের পন্ডিতগণ। গ্রীকের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত লজিশিয়ান বা যুক্তিবিজ্ঞানী ছিলেন প্লেটো এবং তার ছাত্র এরিস্টোটল, যারা লজিককে formal discipline হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। আপনি জানেন কি এরা দুজনেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব (তাদের ভাষায় ‘unmoved mover’) বিশ্বাস করতেন? এরা দু’জনেই যুক্তি দিয়েই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করে গেছেন। এর মাধ্যমে এটুকু বোঝা গেল, যুক্তিবাদী(?) নাস্তিকেরা যুক্তিবিদ্যার পিতা / পিতাতুল্যদেরকে নিজেরাই বিশ্বাস করে না।
এবার আসুন দেখি প্লেটোর যুক্তি কি ছিল। প্লেটো যে যুক্তিটি ব্যবহার করেছিলেন সেটা হলো, Design Indicates Designer, অর্থাৎ – প্রতিটি নকশারই নকশাকারী আছে। মহাগ্রন্থ কোরআনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই একই যুক্তি দিয়ে বার বার অবিশ্বাসীদের নিকট স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন (যেমনঃ সূরা আন’আম ৬:৯৯, সূরা রুম ৩০:২০-২৭)। উদাহরন দিয়ে বুঝানো যাক। আপনি যদি সমুদ্র পারে একটা বালির ঘর দেখেন, আপনি কি চিন্তা করবেন – বাহ কি সুন্দর একটা ঢেউ এসেছিল যেটা একটা বালির ঘর তৈরি করে চলে গেছে? নাকি এটি চিন্তা করবেন, নিশ্চয়ই এখানে কোন মানুষ এসে এটা বানিয়েছিল? কাকে আপনার যুক্তিবাদী মনে হয়? এটা সম্পূর্ণই অযৌক্তিক হবে যদি কেউ বলে, যে ঐ বালির ঘর ভাগ্যক্রমে বা হাজার হাজার ঢেঊ এর মিশ্রনে হয়েছে। বরং সাধারণ বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন যেকোন মানুষই বলবে যে ঐ বালির ঘরটি নিশ্চয়ই কেউ না কেউ তৈরী করেছে। কারন, প্রতিটা সৃষ্টির পেছনেই স্রষ্টা থাকে। ঠিক একইভাবে, এই মহাবিশ্ব এবং এর ভিতরের সবকিছুর অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছে।
একটা কলম নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না, ফেইসবুক নিজে নিজে তৈরী হতে পারে না, আইফেল টাওয়ার থেকে মোনালিসা কোন কিছুই নিজে নিজে তৈরী হতে পারে না, তাহলে এত নিয়মতান্ত্রিক, নিঁখুত মহাবিশ্ব ও মানবজাতি কিভাবে নিজে নিজে তৈরী হতে পারে? একটা অণুর ভিতর তাকান, আপনি ডিজাইন দেখতে পাবেন, মহাকাশের দিকে তাকান আপনি ডিজাইন দেখতে পাবেন। সূর্য যদি পৃথিবীর আরো কাছে থাকতো তাহলে পৃথিবী অনেক বেশী গরম হয়ে যেতো, পৃথিবী থেকে সূর্য আরো দূরে থাকলে পৃথিবী ঠান্ডা হয়ে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যেতো, সূর্য পৃথিবী থেকে ঠিক ততটুকুই দূরে আছে যতটুকু দূরে থাকলে পৃথিবীটা প্রাণের টিকে থাকার উপযুক্ত হবে, সৃষ্টিজগতের এই নিঁখুত স্থাপত্য এটা প্রমান করে যে এই সৃষ্টি জগত র‍্যান্ডমলি সৃষ্টি হতে পারে না, এর পেছনে অবশ্যই একজন প্রবল পরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমতাধর, প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা আছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কোরআন মাজিদে প্রশ্ন করেন:
তারা কি স্রষ্টাহীন সৃষ্টি? না তারা নিজেরা নিজেদের সৃষ্টি করেছে? না তারা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে না । – সূরা তুর (৫২:৩৫-৩৬)
প্রত্যেকটি মানুষই এক আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের স্বাভাবিক অনুভূতি নিয়ে জন্মায়, জন্ম থেকেই মানুষ জানে যে আল্লাহ্‌ এক এবং আল্লাহ্‌ চান আমি তার ইবাদত করি -  ইসলামের ভাষায় এই অনুভূতিকে ‘ফিতরাহ’ বলে।
কি, ‘ফিতরাহ’ এর ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না? বৈজ্ঞানিক প্রমান লাগবে? তাহলে শুনুন। University of Oxford এর Centre for Anthropology and Mind বিভাগের সিনিয়র রিসার্চার Dr. Justin Berrett দীর্ঘ ১০ বছর শিশুদের উপর বৈজ্ঞানিক গবেষনা করে বলেছেন:
“Young people have a predisposition to believe in a supreme being because they assume that everything in the world was created with a purpose.”
 “If we threw a handful (of babies) on an island and they raised themselves I think they would believe in God.”

প্রশ্ন ২। আচ্ছা বুঝলাম এই সৃষ্টিজগত একজন স্রষ্টা তৈরী করেছেন, কিন্তু তাহলে সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে?
উত্তর:  স্রষ্টা কে কেউ সৃষ্টি করতে পারে কিনা – আসুন ব্যাপারটা একটু তলিয়ে দেখি।
কখনো ডমিনোর খেলা দেখেছেন? ডমিনোগুলোকে একটার পর একটা সাজিয়ে বাইরে থেকে ধাক্কা দেয়া হয় আর তার effect শুরু হয়, একটার পর একটা ডমিনো পড়তে থাকে। সৃষ্টির ব্যাপারটাও একইরকম। একটা সৃষ্টি আরেকটা সৃষ্টির কারণ ঘটায়। এখন, আমি যদি আপনাকে বলি, কোন বাতাস ছিল না, কেউ ধাক্কা দেই নাই, অনেকগুলো ডমিনো সাজানো ছিল এবং কোন বাহ্যিক বল ছাড়া এমনি এমনি ডমিনো একটার উপর আরেকটা পড়তে শুরু করল, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? করবেন না (নিউটনের ১ম সূত্র) । এবং যে এই বাহ্যিক বল প্রয়োগ করবে সে অবশ্যই ডমিনো হতে পারে না। কারণ সে ডমিনো হলে, অর্থাৎ সে process of creation এর অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে push করার জন্য, অন্য কথায় তাকে সৃষ্টি করার জন্য অন্য কাউকে লাগবে। অর্থাৎ, এই বাহ্যিক বল প্রয়োগকারী স্রষ্টাকে সৃষ্টি থেকে ভিন্ন প্রকৃতির হতে হবে। সৃষ্টি যদি সসীম হয়, স্রষ্টা হবেন অসীম; সৃষ্টি যদি অন্য সৃষ্টির প্রয়োজন অনুভব করে, স্রষ্টা হবেন চাহিদার উর্দ্ধে; সৃষ্টি যদি ভুল প্রবণ হয়, স্রষ্টা হবেন ভুলের উর্দ্ধে; সৃষ্টি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, স্রষ্টা হবেন চিরস্থায়ী। আর এই স্রষ্টা যেহেতু অসীম ক্ষমতাশীল, অনাদি, অনন্ত, কাজেই এই রকম স্রষ্টা মাত্র একজনই থাকবেন। কারণ, একাধিক অসীম ক্ষমতাশীল, অনাদি, অনন্ত স্রষ্টার সহাবস্থান অসম্ভব।
বলুন – তিনিই আল্লাহ্‌, এক ও অদ্বিতীয়। সবাই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং কেউই তার সমকক্ষ নয়। – সূরা ইখলাস (১১২:১-৪)
সুতরাং, মহাবিশ্বের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করে নাই। কারণ, মহাবিশ্বকে যে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন সেই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে, তাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে, তাকে সৃষ্টি করতে যদি স্রষ্টা লাগে – এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে এবং  কোনদিনই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হত না। এই ধাঁধার একমাত্র সমাধান হলঃ স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করেন নাই, এবং তিনি সবসময়ই ছিলেন। এই কথাই বলে মহাগ্রন্থ কোরআন:

আল্লাহ্‌ – তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব, অনাদি। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের (মানুষের) সামনে ও পেছনে যা-কিছু আছে তিনি তা জানেন। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীব্যাপী তাঁর আসন, আর তাদের রক্ষণাবেক্ষণে তিনি ক্লান্ত হন না। তিনি অত্যুচ্চ মহামহিম। – সূরা বাক্বারাহ্‌ (২:২৫৫ – আয়াতুল কুরসী)
প্রশ্ন ৩। আমার কাছে মহাবিশ্ব নিজেই স্রষ্টা। এতে কোনও সমস্যা আছে?
উত্তর: আপনি নিশ্চয়ই বিগ ব্যাং থিউরী তে বিশ্বাস করেন। বিগ ব্যাং থিউরী মতে এই মহাবিশ্বের একটা শুরু আছে। পৃথিবীর অন্যতম বড় পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিজেও তার ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কে লিখেছেন:
The conclusion of this lecture is that the universe has not existed forever. Rather, the universe, and time itself, had a beginning in the Big Bang, about 15 billion years ago.  The Beginning of Time, Stephen Hawking
যার শুরু থাকে তার সৃষ্টি হওয়ারও একটা কাল থাকে, আর যে সৃষ্টি হয় – তার অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকে। কাজেই মহাবিশ্ব নিজে কখনই স্রষ্টা হতে পারে না। মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করার জন্য একজন অনন্ত-অসীম, পরম ক্ষমতাশীল স্রষ্টা লাগবে – আর সেই পরম ক্ষমতাশীল স্রষ্টাই হলেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা।
অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল? তারপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না? – সূরা আম্বিয়া (২১:৩০)
References:
1. Does God exist? – Abdur Raheem Green
2. Who is your Lord? – Dr. Bilal Philips
3. Fundamentals of Faith – Dr. Yasir Qadhi

Source: http://adnanfaisal.wordpress.com