Pages

Showing posts with label আল্লাহ পাকের দিদার. Show all posts
Showing posts with label আল্লাহ পাকের দিদার. Show all posts

Friday, May 23, 2014

আল্লাহ পাকের দিদার, আল্লাহর ইবাদতের অর্থ, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় - আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী

আল্লাহ পাকের দিদার, আল্লাহর ইবাদতের অর্থ, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় - আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী 

আল্লাহ পাকের দিদার:


আল্লাহর ইবাদতের অর্থ:


আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়:

Sunday, May 4, 2014

হযরত মুসা (আঃ)-এর সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ, আল্লাহর নিদর্শন এবং তা অমান্যের পরিণতি

হযরত মুসা (আঃ)-এর সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ, আল্লাহর নিদর্শন এবং তা অমান্যের পরিণতি


সূরা আরাফের ১৪৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-
  وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ (143)

"মূসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলো এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন মূসা বললো, হে আমার প্রতিপালক! আমার কাছে দেখা দিন যাতে আমি আপনাকে দেখতে পারি । আল্লাহ বললেন, আমাকে কখনও দেখতে পারবে না । বরং পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকে, তবে তুমি আমাকে দেখবে । যখন তাঁর প্রতিপালক পাহাড়ে তাঁর জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেললো, আর মূসা জ্ঞানহীন হয়ে পড়লো । যখন জ্ঞান ফিরে পেলো, তখন মূসা বলল, মহা পবিত্র আপনি, বা আপনি দর্শন থেকে পবিত্র, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি এবং আমিই সর্বপ্রথম আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি।" (৭:১৪৩)

আগের আয়াতের আলোচনায় আমরা জেনেছি, মহান আল্লাহ তাওরাত গ্রন্থ গ্রহণ করতে হযরত মূসা (আ.)কে তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন ধরে অবস্থানের আহবান জানান। এ আয়াতে বলা হচ্ছে, হযরত মূসা (আ.) তুর পাহাড়ে আসেন এবং মহান আল্লাহর সাথে কথা বলেন। হযরত মূসা (আ.)’র কাছে উত্থাপিত বনী ইসরাইলের বিভিন্ন দাবির মধ্যে একটি দাবি ছিল, মহান আল্লাহকে চোখ দিয়ে দেখা । তাই, মূসা (আ.) মহান আল্লাহর কাছে এ দাবি পেশ করে বলেনঃ হে আল্লাহ যদি সম্ভব হয়, তাহলে আমার সামনে এমনভাবে দেখা দিন, যাতে আমি আপনাকে আমার চোখ দিয়ে দেখতে পারি এবং যাতে আমার জাতির কাছে এটা বলতে পারি যে, আমি আল্লাহকে দেখেছি। কিন্তু মহান আল্লাহ এর উত্তরে বলেনঃ না, তুমিও আমাকে কখনও দেখতে পারবে না, কারণ, আমি দর্শনাতীত, অবশ্য আমার ক্ষমতা ও শক্তির নিদর্শন দেখতে পাবে। আর এ জন্যে এ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখ, তা আমার ইচ্ছায় কিভাবে ধ্বংস হয়ে  গেছে। এ অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখে হযরত মূসা (আ.) জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং মাটিতে পড়ে যান। পরে হুঁশ ফিরে এলে তিনি বলেন, আমি সবার আগে আপনার প্রতি ঈমান আনলাম এবং আপনার শক্তি ও মহামহিমা বা মহা প্রতাপের সাক্ষ্য দিচ্ছি। আর এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি উত্থাপনের জন্যে আাপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। নিশ্চয়ই আপনি চোখে দেখার অনেক উর্ধ্বে ও এ ধরনের সীমাবদ্ধতা থেকে পবিত্র ।
আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র কাছে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন যে এভাবে তাঁর ইবাদত করছেন? উত্তরে তিনি বললেন, যে আল্লাহকে আমি দেখি না বা জানি না আমি তাঁর ইবাদতও করি না, অবশ্য দেখা বলতে আমি চোখ দিয়ে দেখা নয়, বরং অন্তর দিয়ে দেখাকে বোঝাচ্ছি । অন্য এক সময় তিনি বলেছেন, আমি এমন কোনো কিছু দেখিনি যার সাথে এবং  আগে ও পরে আল্লাহ ছিলেন না । সূরা আনআমের ১০৩ নম্বর আয়াতেও মহান আল্লাহ বলেছেন, চোখ তাঁকে দেখতে পারে না, কিন্তু তিনি সব চোখ দেখতে পান ।

এ আয়াত থেকে আমাদের মনে রাখা দরকার:
এক. মহান আল্লাহকে জানা বা বোঝার জন্যে তাঁর মহিমা ও ক্ষমতার নিদর্শনের দিকে লক্ষ্য করা উচিত এবং সমস্ত সৃষ্টি  জগতই   আল্লাহর নিদর্শন ।
দুই. আল্লাহর কাছ থেকে অযৌক্তিক কিছু আশা করা ঠিক নয়, এ ধরনের আশা এবং আল্লাহ সম্পর্কে সব ধরনের ভুল ধারণার ব্যাপারে তওবা করা উচিত ।

সূরা আ'রাফের ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
  قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آَتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (144) وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ (145)

"আল্লাহ বললেন, হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার বাণী ও বাক্যালাপের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাই, আমি যা দিয়েছি তা অর্থাৎ তাওরাত কিতাব গ্রহণ কর ও কৃতজ্ঞ হও।" (৭:১৪৪)
"তাওরাত গ্রন্থে আমি তোমার জন্যে সব বিষয়ের উপদেশ ও সব বিষয়ে বিবৃতি লিখে দিয়েছি। অতএব, তুমি তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং তোমার জাতির লোকদেরকে তার কল্যাণকর বিষয়গুলোকে গ্রহণ করতে বল। আমি শিগগিরই তোমাকে সত্য ত্যাগীদের বাসস্থান দেখাবো।" (৭:১৪৫)

তুর পাহাড়ে ৪০ দিন অবস্থানকালে হযরত মূসা (আ.)’র কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত গ্রন্থ নাজেল হয়। পাথরের ফলকে এ ঐশী প্রত্যাদেশ নাজেল হয়েছিল। আল্লাহ এ গ্রন্থের বিধানগুলো কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরতে এবং বনী ইসরাইলকে এর বিধানগুলো মেনে চলতে বলার জন্যে  হযরত মূসা  (আ.)’র প্রতি আহবান জানান।

এ দুই আয়াত থেকে আমাদের মনে রাখা দরকারঃ
এক.  ফেরাউনের মতো অত্যাচারী ও খোদাদ্রোহী শাসকদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা উৎখাত ও খোদায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর  এ রাষ্ট্রে অবশ্যই খোদায়ী বিধি বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে ।
দুই.   ঐশী কিতাব বা খোদায়ী গ্রন্থ লাভের জন্যে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আর এ ধরনের মহা অনুগ্রহের জন্যে কৃতজ্ঞতা হিসেবে আল্লাহর বিধানগুলো মানা উচিত, কিছু নৈতিক উপদেশ প্রচারই এ জন্যে যথেষ্ট নয় ।

 সূরা আরাফের ১৪৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
  سَأَصْرِفُ عَنْ آَيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آَيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ (146)

"পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে গর্ব করে বেড়ায়, আমি শিগগিরই তাদেরকে আমার নিদর্শন হতে বিমুখ করবো এবং যদি তারা আমার সমস্ত নিদর্শন দেখে, তবুও তারা এতে বিশ্বাস করবে না, যদি তারা সুপথ দেখে তবুও তারা ঐ পথ গ্রহণ করবে না এবং যদি ভুল পথ দেখে, তবে তারা সে পথই গ্রহণ করবে ; এটা এ জন্যে যে তারা আমার নিদর্শনাবলীতে অবিশ্বাস করেছিল এবং ওতে অমনোযোগী ছিল।" (৭:১৪৬)

আগের আয়াতে আল্লাহর বিধান  দৃঢ়ভাবে মেনে চলা ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়ার পর এ আয়াতে বলা হচ্ছে - যারা আল্লাহর বিধানের কাছে নতি স্বীকার করে না এবং অহংকার করে, তারা সত্য গ্রহণে প্রস্তুত নয় । এমনকি তাঁরা মহান আল্লাহর ক্ষমতার অনেক নিদর্শন দেখা এবং সত্যের পথকে বোঝার পরও সত্য গ্রহণ করে না। আসলে তারা উন্নতি ও পূর্ণতার পথের সন্ধান করে না এবং তারা যেখানেই যাক না কেন সত্য থেকে পালিয়ে বেড়ায়।

এ আয়াত থেকে আমাদের মনে রাখা দরকারঃ
এক.  মহান আল্লাহর নিদর্শনকে অস্বীকার করা ও আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মূল উৎস হলো অহংকার বা গর্ব ।
দুই. আল্লাহর মোকাবেলায় অহংকারের পরিণতি হলো সুপথ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং আল্লাহ বিনা কারণে কারো ওপর অনুগ্রহ করা বন্ধ করেন না। #


Wednesday, March 26, 2014

জান্নাতে আল্লাহর দিদার লাভ

জান্নাতে আল্লাহর দিদার লাভঃ

জান্নাতের সর্বোৎকৃষ্ট, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম নেয়ামত হবে দিদারে ইলাহী বা সরাসরি আল্লাহর দিদার লাভ। ( মুসলিম শরীফ )।

আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভকারীদের অবস্থান হবে চার ধরণের। এক প্রকার লোক যারা সারা বছরে একবার আল্লাহর দিদার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করবে। দ্বিতীয় প্রকার সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার। তৃতীয় প্রকার দৈনন্দিন দুইবার আল্লাহর দিদার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করবে। ( মুসলিম শরীফ )।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, যারা ফজর এবং আসরের নামায খুশু-খুজু বা অত্যন্ত মনযোগ সহকারে একনিষ্ঠভাবে আদায় করবে, তাদের জন্য দৈনন্দিন দুইবার আল্লাহর দিদার লাভ খুবই সহজতর হবে। আর চতুর্থ প্রকার হবে চূড়ান্ত বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন, বিশেষ বিশেষ লোক, যারা চাকর-বাকরের ন্যায় সদা-সর্বদা, সর্বক্ষণ দিদারে ইলাহীর চরম সৌভাগ্য অর্জন করতে থাকবে। ( মুসলিম, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ )।

আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের সকলকে জান্নাতে প্রতিমুহূর্তে দিদারে ইলাহীর সৌভাগ্য অর্জনের তৌফিক দান করুন। আ-মী-ন।

জান্নাতে মুমিনদের আল্লাহর
দিদার লাভঃ
যদি আপনি মহা পরাক্রমশালী প্রশংসিত
প্রভুর সাক্ষাৎ এবং কোন প্রকার
উপমা ও সাদৃশ্য হতে পবিত্র তাঁর
চেহারা দর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তবে জেনে নিন
যে আপনি কিয়ামতের দিন
আল্লাহকে সেরকমই দেখতে পাবেন,
যেমন পরিস্কার আকাশে দিনের
বেলায় সূর্য এবং রাতের বেলায়
পূর্ণিমার চন্দ্রকে দেখতে পান। এ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হতে মুতাওয়াতির (ধারাবাহিক)
সূত্রে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
যারীর, সুহাইব, আনাস, আবু হুরায়রা,
আবু মুসা, আবু সাঈদ ও অন্যান্য সাহাবী (রাঃ) হতে সহীহ
এবং সুনানের কিতাবগুলোতে এসমস্ত
হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অতএব
আপনি শ্রবণ করুন, যে দিন
ঘোষণাকারী এই
বলে ঘোষণা করবে যে, হে জান্নাতবাসীগণ! আপনাদের প্রভু
আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
আপনারা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসুন!
জান্নাতবাসীগণ দ্রুত বের
হয়ে এসে দ্রুতগামী বাহনগুলো প্রস্তুত
অবস্থায় দেখতে পাবেন। বাহনের উপর তারা উঠে বসবেন। যখন
তারা প্রশস্ত উপত্যকায় সমবেত
হবেন তখন আল্লাহ
তাআলা সেখানে কুরসী স্থাপন
করতে বলবেন। তারপর
জান্নাতবাসীদের জন্যে মণি-মুক্তা, নূর, যাবারযাদ, এবং স্থাপন করা হবে।
তারা যখন স্থির হয়ে বসবেন তখন
ঘোষণা দেয়া হবেঃ হে জান্নাতীগণ!
সালামুন আলাইকুম (আপনাদের উপর
শান্তি বর্ষিত হোক)। অতি সুন্দর ভাষায় তারা সালামের উত্তর
দিবেনঃ
َﺖْﻛَﺭﺎَﺒَﺗ ُﻡﺎَﻠَّﺴﻟﺍ َﻚْﻨِﻣَﻭ ُﻡﺎَﻠَّﺴﻟﺍ َﺖْﻧَﺃ َّﻢُﻬَّﻠﻟﺍ
ٍﺮْﻴَﻤُﻧ ِﻦْﺑﺍ ِﺔَﻳﺍَﻭِﺭ ﻲِﻓَﻭ ِﻡﺍَﺮْﻛِﺈْﻟﺍَﻭ ِﻝﺎَﻠَﺠْﻟﺍ ﺍَﺫ
ِﻡﺍَﺮْﻛِﺈْﻟﺍَﻭ ِﻝﺎَﻠَﺠْﻟﺍ ﺍَﺫ ﺎَﻳ
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়। আপনার পক্ষ হতেই শান্তির
ধারা বর্ষিত হয়ে থাকে।
হে মহা সম্মানের অধিকারী!
আপনি অতি বরকতময়। তাদের উত্তর
শুনে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম
বলবেনঃ আমার সেই বান্দাগণ কোথায়? যারা আমাকে না দেখেই
আমার আনুগত্য করেছিল। আজ তাদের
অতিরিক্ত পুরস্কারের দিন। তখন
সকল জান্নাতবাসী এক
বাক্যে বলবেনঃ হে আল্লাহ
আমরা আপনার উপর সন্তুষ্ট। সুতরাং আপনিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট
হয়ে যান। তখন আল্লাহ
বলবেনঃ হে জান্নাতীগণ!
আমি যদি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট
না থাকতাম
তাহলে তোমাদেরকে আমার এই জান্নাতে প্রবেশ করাতামনা। আজ
তোমাদের জন্যে অতিরিক্ত
পুরস্কারের দিন। তোমাদের মন
যা চায়, তাই চাইতে পার। তখন
সকলেই এক বাক্যে বলবেনঃ আমাদের
জন্যে আপনার চেহারা মুবারাক উম্মুক্ত করুন। আমরা আপনার
দিকে তাকিয়ে আপনার দর্শন লাভের
নেয়া’মত ভোগ করব। তারপর আল্লাহ
তাআলা চেহারার পর্দা উম্মুক্ত
করে তাদের সামনে বের হবেন।
আল্লাহর নূর তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলবে। আল্লাহ যদি এ
ফয়সালা না করতেন
যে তারা আল্লাহর নূরে প্রজ্বলিত
হবেনা তাহলে তাঁরা অবশ্যই
জ্বলে যেতেন। ঐ
মজলিসে যারা উপস্থিত হবেন তাদের সবার সাথেই আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন কথা বলবেন।
এমনকি আল্লাহ বলবেনঃ হে আমার
বান্দা! তোমার কি মনে আছে?
তুমি অমুক দিন এই কাজ করেছিলে।
সে বলবে, হে দয়াময় আল্লাহ! আপনি কি আমাকে ক্ষমা করে দেননি?
আল্লাহ বলবেনঃ আমার ক্ষমার
বিনিময়েই তুমি এই মর্যাদায়
পৌঁছতে সক্ষম হয়েছো। কতইনা সুন্দর
হবে আল্লাহর এসমস্ত কথা শ্রবণ!!
সম্মানিত প্রভুর চেহারার দিকে তাকিয়ে চক্ষু
শীতলকারী সৎকর্মশীলদের
কতইনা সৌভাগ্য!! ক্ষতিগ্রস্ত
ব্যবসা নিয়ে প্রত্যাবর্তনকারীদের
কতইনা দুর্ভাগ্য!! আল্লাহ বলেনঃ
ٌﺓَﺮِﻇﺎَﻧ ﺎَﻬِّﺑَﺭ ﻰَﻟِﺇ ٌﺓَﺮِﺿﺎَﻧ ٍﺬِﺌَﻣْﻮَﻳ ٌﻩﻮُﺟُﻭ َﻞَﻌْﻔُﻳ ْﻥَﺃ ُّﻦُﻈَﺗ ٌﺓَﺮِﺳﺎَﺑ ٍﺬِﺌَﻣْﻮَﻳ ٌﻩﻮُﺟُﻭَﻭ
ٌﺓَﺮِﻗﺎَﻓ ﺎَﻬِﺑ
অর্থঃ “সেদিন অনেক মুখমন্ডল
উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের
প্রতিপালকের
দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অনেক মুখমন্ডল সেদিন উদাস হয়ে পড়বে।
তারা ধারণা করবে যে, তাদের
সাথে কোমর ভাঙ্গা আচরণ করা হবে।
(সূরা আল-কিয়ামাহঃ ২২-২৫)

Tuesday, March 25, 2014

সুরা আল-কিয়ামাহতে বর্ণিত আখেরাতে আল্লাহর দর্শন লাভের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

সুরা আল-কিয়ামাহতে বর্ণিত আখেরাতে আল্লাহর দর্শন লাভের বিস্তারিত ব্যাখ্যা


আল্লাহ বলেনঃ
ٌঅর্থঃ “সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। নিজের রবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে৷১৭   আর অনেক মুখমন্ডল সেদিন উদাস হয়ে পড়বে। তারা ধারণা করবে যে, তাদের সাথে কোমর ভাঙ্গা আচরণ করা হবে। (সূরা আল-কিয়ামাহঃ ২২-২৫)



তাফহীমুল কুরআনে প্রণীত উক্ত আয়াতসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নীচে দেয়া হল: 

১৭ . ''নিজের রবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে৷" - মুফাস্সিরগণের কেউ কেউ একথাটিকে রূপক অর্থে গ্রহণ করেছেন। তারা বলেনঃ "কারো প্রতি তাকিয়ে থাকা"কথাটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে তার কাছে কোন কিছু আশা কার, তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা এবং তার দয়া প্রার্থী হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এমন কি অন্ধ ব্যক্তিও অনেক সময় বলে যে, আমি তো অমুকের দিকে তাকিয়ে আছি, তিনি আমার জন্য কি করেন তা দেখার জন্য। কিন্তু বহু সংখ্যক হাদীসে এর যে ব্যাখ্যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তাহলো, আখেরাতে আল্লাহর নেককার বান্দাদের আল্লাহর সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য হবে। বুখারী,শরীফের বর্ণনায় আছেঃ ---------------"তোমরা প্রকাশ্যে সুষ্পস্টভাবে তোমাদের রবকে দেখতে পাবে।" মুসলিম এবং তিরমিযীতে হযরত সুহাইব থেকে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বেহেশতবাসীরা বেহেশতে প্রবেশ করার পর আল্লাহ তা"আলা তাদের জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি চাও, যে, আমি তোমাদের আরো কিছু দান করি৷ তারা আরয করবে, আপনি কি আমাদের চেহারা দীপ্তিময় করেননি৷ আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করেননি এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেননি৷তখন আল্লাহ তা"আলা পর্দা সরিয়ে দেবেন। ইতিপূর্বে তারা যেসব পুরস্কার লাভ করেছে তার কোনটিই তাদের কাছে তাদের "রবের "সাক্ষাতলাভের সম্মান ও সৌভাগ্য থেকে অধিক প্রিয় হবে না। এটিই সে অতিরিক্ত পুরষ্কার যার কথা কুরআনে এভাবে বলা হয়েছেঃ--------------------- অর্থাৎ "যারা নেক কাজ করেছে তাদের জন্য উত্তম পুরস্কার রয়েছে। আর এ ছাড়া অতিরিক্ত পুরস্কারও রয়েছে।"(ইউনুস, ২৬) বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু সাঈদ খুদরী এবং হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রসূল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাবো৷ জবাবে নবী (সা) বললেনঃ যখন মেঘের আড়াল থাকে না তখন সুর্য ও চাঁদকে দেখতে তোমাদের কি কোন কষ্ট হয়৷ সবাই বললো "না।" তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের রবকে এ রকমই স্পষ্ট দেখতে পাবে। বুখারী ও মুসলিমে হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এ বিষয়ের প্রায় অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মুসনাদে আহমাদ,তিরমিযী, দারকুতনী, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, তাবারানী, বায়হাকী, ইবনে আবী শায়বা, এবং আরো কিছু সংখ্যক মুহাদ্দিস কিছুটা শাব্দিক তারতম্যসহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, যার বিষয়বস্তু হলো, জান্নাতবাসীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিও দুই হাজার বছরের দুরত্ব পর্যন্ত তার সাম্রাজ্যের বিস্তার দেখতে পাবে। এবং সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি প্রতিদিন দুই বার তার রবকে দেখতে পাবে। একথা বলার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন যে, "সেদিন কিছু সংখ্যক চেহারা তরতাজা থাকবে। নিজের রবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে।" ইবনে মাজাতে হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণিত একটি হাদীসে আছে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি তাকাবেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি তাকাবে। অতপর যতক্ষণ আল্লাহ তা"আলা তাদের থেকে অন্তর্হিত না হবেন ততক্ষণ তারা জান্নাতের কোন নিয়ামতের প্রতি মনোযোগ দিবে না। এবং আল্লাহর প্রতি তাকিয়ে থাকবে। এটি এবং অন্য আরো বহু হাদীসের ভিত্তিতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীগণ প্রায় সর্বসম্মতভাবেই এ আয়াতের যে অর্থ করেন তাহলো, জান্নাতবাসীগণ আখেরাতে মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবে। কুরআন মজীদের এ আয়াত থেকেও তার সমর্থন পাওয়া যায়।------------------- "কখ্খনো নয়, তারা (অর্থাৎ পাপীগণ) সেদিন তাদের রবের সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত হবে।"(আল মুতাফফিফীন,১৫) এ থেকে স্বতই এ সিদ্ধান্ত উপনীত হওয়া যায় যে,এ বঞ্চনা হবে পাপীদের জন্য,নেককাদের জন্য নয়।
এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয়। তাহলো, মানুষের পক্ষে আল্লাহকে দেখা কিভাকে সম্ভব৷ কোন জিনিসকে দেখতে পাওয়ার জন্য যা অনিবার্যরূপে প্রয়োজন তাহলো, সে জিনিসটিকে কোন বিশেষ দিক, স্থান,আকৃতি ও বর্ণ নিয়ে সামনে বিদ্যমান থাকতে হবে।আলোকে রশ্মি তাতে প্রতিফলিত হয়ে চোখের ওপর পড়বে এবং চোখ থেকে তার ছবি বা প্রতিবিম্ব মস্তিস্কের দর্শনকেন্দ্রে পৌছবে। মানুষের আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পবিত্র সত্তাকে এভাবে দেখতে পাওয়ার কল্পনাও কি করা যায়৷ কিন্তু এ ধরনের প্রশ্ন মূলত একটি বড় ভ্রান্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত । এ ক্ষেত্রে দুটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি। একটি হলো, দেখার তাৎপর্য। আর অপরটি হলো দেখার কাজটি সংঘটিত হওয়ার সেই বিশেষ অবস্থা বা প্রক্রিয়াটি যার সাথে আমরা এ পৃথিবীতে পরিচিত। দেখার তাৎপর্য হলো, দর্শনকারী ব্যক্তির মধ্যে দৃষ্টিশক্তি থাকতে হবে। অর্থাৎ সে অন্ধ হবে না। দৃশ্যমান বস্তু তার কাছে স্পষ্ট হবে, অদৃশ্য বা চোখের আড়াল হবে না। কিন্তু দুনিয়াতে আমরা যে জিনিসের অভিজ্ঞতা লাভ করি বা তা পর্যবেক্ষণ করে থাকি তা দেখার সে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় যার সাহায্যে কোন মানুষ বা পশু কার্যত কোন জিনিসকে দেখে থাকে। এ জন্য অনিবার্যরূপে যা প্রয়োজন তা হলো, দর্শনকারীর দেহে চোখ নামক একটি অংগ থাকবে।সে অংগটিতে দেখার শক্তি বর্তমান থাকবে। তার সামনে একটি সসীম রঙীন বা বর্ণময় দেহ বিদ্যমান থাকবে যা থেকে আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে চোখের পর্দার ওপর পড়বে এবং চোখের পর্দায় তার আকৃতির স্থান সংকুলান হতে হবে। এখন যদি কেউ মনে করে যে, দেখতে পাওয়ার মূলে এ দুনিয়াতে যে প্রক্রিয়াটি কার্যকর বলে আমরা জানি শুধু সে প্রক্রিয়াতেই দেখার কাজটি কার্যত প্রকাশ পেতে বা ঘটতে পারে তাহলে তা তার নিজের মন-মগজ তথা ধী -শক্তির সংকীর্ণতা। অন্যথায় আল্লাহ তা"আলার নিজের সাম্রাজ্যে দেখার জন্য এত অসংখ্য উপায় ও প্রক্রিয়া থাকা সম্ভব যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। এ প্রশ্ন নিয়ে যে ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হয় সে নিজেই বলূক, তার বর চক্ষুষ্মান না অন্ধ৷ তিনি যদি চক্ষুষ্মান তথা দৃষ্টিশক্তির অধিকারী হয়ে থাকেন এবং গোটা বিশ্ব -জাহান ও তার প্রতিটি বস্তু দেখে থাকেন তাহলে কি তিনি চোখ নামের একটি অংগ দিয়ে দেখছেন যা দিয়ে দুনিয়ায় মানুষ ও অন্য সব জীবজন্তু দেখে থাকে এবং আমাদের দ্বারা যেভাবে দেখার কাজটা সংঘটিত হচ্ছে তাঁর দ্বারাও কি সেভাবেই সংঘটিত হচ্ছে৷ সবারই জানা যে,এর জবাব হবে নেতিবাচক।এর জবাব যখন নেতিবাচক ,তখন কোন বিবেক ও বোধ সম্পন্ন মানুষের একথা বুঝাতে কষ্ট হবে কেন যে, দুনিয়াতে মানুষ যে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোন জিনিসকে দেখে থাকে জান্নাতবাসীগণ সে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন না। বরং সেখানে দেখর ধরন, প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া হবে অন্য রকম যা এখানে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। দাম্পত্য জীবন কি এবং কেমন একটি দুই বছরের শিশুর পক্ষে তা বুঝা যতটা কঠিন, প্রকৃতপক্ষে আখেরাতের সবকিছু সঠিকভাবে বুঝা আমাদের জন্য তার চেয়েও বেশী কঠিন। অথচ যৌবনে উপনীত হয়ে এ শিশু নিজের দাম্পত্য জীবন যাপন করবে।

Monday, March 24, 2014

আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের অভিমত কি? যারা বলে যে, চর্মচক্ষু দিয়ে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয় বরং আল্লাহকে দেখার অর্থ পরিপূর্ণ ঈমানের নামান্তর, তাদের হুকুম কি?

আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের অভিমত কি? যারা বলে যে, চর্মচক্ষু দিয়ে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয় বরং আল্লাহকে দেখার অর্থ পরিপূর্ণ ঈমানের নামান্তর, তাদের হুকুম কি?


বিবরণ/উত্তরঃ


আল্লাহ তাআ’লা কুরআন মজীদে কিয়ামতের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
)وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ(
“সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জল হবে। তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা কিয়ামাহঃ ২২-২৩) আয়াতের মধ্যে সুস্পষ্ট দলীল পাওয়া যায় যে, কিয়ামত দিবসে জান্নাতের মধ্যে আল্লাহকে চর্মচক্ষু দিয়ে দেখা যাবে। এর অর্থ এ নয় যে, আল্লাহর সমগ্র সত্বাকে দর্শন করা সম্ভব হবে। 
)وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا(
“তারা তাঁকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ব করতে পারে না।” (সূরা ত্বোহাঃ ১১০) জ্ঞানের মাধ্যমে  কোন জিনিষকে আয়ত্ব করার বিষয়টি চোখের মাধ্যমে দেখে আত্ত্ব করার চেয়ে অধিকতর ব্যাপক। যখন জ্ঞানের মাধ্যমে আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে জানা সম্ভব নয় তাহলে প্রমাণিত হচ্ছে যে চর্মচক্ষু দ্বারা পরিপূর্ণভাবে দর্শন করা সম্ভব নয়।  আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ (
“দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন।” (সূরা আনআ’মঃ ১০৩) প্রকৃত পক্ষেই মানুষ আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখবে। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তাআ’লা এর অনেক উর্দ্ধে। এটাই সালাফে সালেহীনের মাযহাব। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা বেহেশ্‌তবাসীর জন্য হবে সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এই জন্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আয় বলতেনঃ
)وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ(
উচ্চারণঃ- আস্‌-আলুকা লায্‌যাতান্‌ নাযরি ইলা ওয়াজ্‌হিকা। অর্থঃ “হে আল্লাহ আমি আপনার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকার পরিতৃপ্তি প্রার্থনা করছি।” আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ খুবই বিরাট। যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ লাভ করেছে, সেই কেবলমাত্র তা অনুভব করতে সক্ষম হবে। আল্লাহর কাছে দু’আ করি তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে তাঁর দিদার লাভে ধন্য করেন।
   যারা ধারণা করে যে, আল্লাহকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখা সম্ভব নয়; বরং আল্লাহকে দেখার অর্থ পরিপূর্ণভাবে অন্তর দিয়ে আল্লাহকে বিশ্বাস করার নামান্তর, তাদের কথা বাতিল এবং দলীল বিরোধী। প্রকৃত অবস্থা এই ধারণাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কারণ অন্তরের পরিপূর্ণ বিশ্বাস দুনিয়াতেই বর্তমান রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহসানের ব্যাখ্যায় বলেনঃ
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
“ইহসান হল তুমি এমনভাবে আল্লাহর এবাদত করবে যে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।” তুমি এমন ঈমান নিয়ে আল্লাহর এবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। এটিই পরিপূর্ণ ঈমানের পরিচয়। যে সমস্ত আয়াত ও হাদীছে আল্লাহকে দেখার কথা আছে, সেগুলোকে অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল এবং কুরআনের আয়াতকে তার আসল অর্থ হতে পরিবর্তন করার শামিল। যে ব্যক্তি এ ধরণের ব্যাখ্যা করবে তার প্রতিবাদ করা ওয়াজিব।

Source: http://www.hadithbd.com